অভিজিৎ হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন ফারাবী আটক

0
211

ব্লগার প্রকৌশলী অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ইসলামপন্থী ব্লগার শাফিউর রহমান ফারাবীকে আটক করেছে র‌্যাব। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় র‌্যাব সদর দফতরের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারি পরিচালক মাকসুদুল আলম বলেন, অভিজিৎ হত্যার পর পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পাশাপাশি র‌্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল যাত্রাবাড়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে ফারাবীকে আটক করে। তাকে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফুটপাতে অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী বন্যার ওপর হামলা চালানোর সময় টিএসসি’র সামনের রাস্তায় শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টহল গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। বাংলা একাডেমীর একুশে বই মেলার প্রবেশস্থলেও পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফুটপাত দিয়ে স্বামী-স্ত্রী হেঁটে যাওয়ার সময় পিছন থেকে দুইজন চাপাতিধারী ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনের পিছু নেন একজন পথচারী। ওই পথচারী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট পর্যন্ত তাকে অনুসরণ করে। এক পর্যায়ে ওই পথচারী হামলাকারীকে জাপটে ধরে। এসময় হামলাকারী পথচারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে, অভিজিতের মাথার পিছনে তিনটি আঘাতের প্রচণ্ডতা ও অতিরিক্ত রক্তণেই অভিজিতের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক। তিনি মন্তব্য করেছেন, অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তির হাতেই অভিজিৎ খুন হয়েছেন। তবে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পরপরই এ হত্যার দায় স্বীকার করে ‘আনসার বাংলা-৭’ নামের একটি সংগঠন টুইট করে। এতে বলা হয়, ‘টার্গেট ৫ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেয় এবং এর ২ ঘণ্টা পর তাকে হত্যা করা হয়।’ টুইটারে আরো লেখা হয়, ‘ভিআইপি টার্গেট ইজ ডাউন। ইয়েস ব্রাদার, উই ক্যান।’ অভিজিৎ রায় হত্যার পরের দিন শুক্রবার সকালে নিহতের পিতা অজ্ঞাতনামা আসামি করে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরের দিন মামলা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email