অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ঘুষকে বৈধ ঘোষনায় আমেরিকান উলামা কাউন্সিলের উদ্বেগ

0
250

CL0102-154x300
নিউইর্য়ক থেকে রশীদ আহমদ: বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত কর্তৃক ঘুষকে বৈধ ঘোষনার প্রতিবাদ জানালেন আমেরিকান উলামা কাউন্সিল। এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল ইউ.এস.এর সভাপতি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতী লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী, সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রশীদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট লেখক-গবেষক মাওলানা রশীদ জামীল বলেন, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত এর নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত বক্তব্য ‘ঘুষকে বৈধ’ ঘোষনার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।
বিবৃতিদাতারা বলেন, মহান আল্লাহ তা’য়ালা যেখানে সুদ-ঘুষকে পরিস্কার ভাষায় হারাম ঘোষনা করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা:) হাদীস শরীফে ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়কে জাহান্নামী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও ঘুষ নিষিদ্ধ। সেখানে কি করে মুসলিম দেশের প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়ে মুহিত ঘুষকে বৈধ ঘোষনা দেন। তিনি এই সুষ্পষ্ট হারাম কাজ ঘুষকে বৈধ ঘোষনা দিয়ে নব্য মুরতাদের কাতারে শামিল হয়েছেন। মন্ত্রী ঘুষ-দূর্নীতিকে বৈধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযোগ করে নেতৃবৃন্দ বলেন,অবিলম্বে তাকে প্রথমে আল্লাহ তা’য়ালা দরবারে পরে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।একই সাথে নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছেন, তাকে মন্ত্রী সভা থেকে বরখাস্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির প্রদানের জন্য।
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে জাতির সামনে ঘুষ-দূর্নীতি উচ্ছেদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,তা থেকে সরকার সরে এসে উল্টো ঘুষ-দূর্নীতিকে বৈধ করার নিমিত্তে ক্রমশ অপচেষ্টা চালাচ্ছে।যার প্রমান ও তাদের চরিত্রের মুখোশ উম্মোচন করে দিয়েছে অর্থমন্ত্রীর নীতিহীন বক্তব্যে।
বিবৃতিদাতারা আরো বলেন,মন্ত্রী যেভাবে ঘুষের গুণকীর্তন করেছেন,তাতে অনুমান করা হচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার ঘুষ-দূর্নীতিকে চিরস্থায়ী রুপদেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে।তাই মন্ত্রীর এই অন্যায় ও নির্লজ্জ বক্তব্য এবং সরকারের ঘুষ-দূর্নীতিকে বৈধতা দেয়ার গোপন পায়তারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ/প্রতিরোধ সহ দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যও বাংলাদেশের এবং প্রবাসের আলেম সমাজ সহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতিও উদ্বাত্ত্ব আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ যে, মন্ত্রী মুহিত গত ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর হলে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন “ঘুষ নেয়া বা দেয়াকে আমি অবৈধ মনে করি না”। কাজের সুবিধার্থে এটি একটি মাধ্যম।

Print Friendly, PDF & Email