আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে লতিফ সিদ্দিকী

0
171

Lotif Siddki 01
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বেতন নিয়ে মন্তব্য ও ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মামলায় আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে গিয়েছেন মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত এবং বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সোমবার সকালে তিনি হাইকোর্টে পৌঁছান বলে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিনি বর্তমানে হাইকোর্টে অবস্থান করছেন। তবে হাইকোর্টের কোন বেঞ্চে তার জামিন আবেদন করা হবে তা এখনও জানা যায়নি।
সম্প্রতি হজ, মহানবী (সা.) এবং তাবলিগ জামায়াত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় দেশে-বিদেশে তার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ফলে এতো দিন তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন।
রবিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত লতিফ সিদ্দিকী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থান করেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তাকে গ্রেপ্তারে কোনো পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। বিমানবন্দর ছেড়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যান লতিফ সিদ্দিকী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিউ ইয়র্ক সফরে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’
তিনি বলেন, ‘এই হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই, শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’ এমন মন্তব্যের পর টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে ‘মুরতাদ’ ঘোষণা দিয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম। তার বিচারের দাবিতে একদিন হরতালও পালন করে সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো।
এছাড়া প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তার বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ১২ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকেও অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। আর হজ, মহানবী (সা.) এবং তাবলিগ জামায়াত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়েছে এবং এসব মামলার কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email