আজ তালা না খুললে তালা ভাঙবেন উপাচার্য

0
220

স্থায়ী নিয়োগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের আন্দোলনে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী প্রথম আলোকে বলেছেন, আজ রোববারের মধ্যেই যদি আন্দোলনকারীরা তালা খুলে না দেন তাহলে তিনি পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় তালা ভেঙে ফেলবেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন সাবেক উপাচার্যের আমলে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরাই। লাগাতার আন্দোলনের কারণে চলতি বছরের অনার্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই অচল অবস্থার প্রতিকার চেয়ে শিক্ষক সমিতির একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) দ্বারস্থ হয়েছে। ইউজিসি বলছে, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে: জানা গেছে, বর্তমান উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী ২০১৩ সালের ৫ মে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের উপাচার্যের আমলের অবৈধ নিয়োগ বাতিল না করে ক্রমান্বয়ে স্থায়ী করা শুরু করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে ১৫২ জন স্থায়ী হতে পারেননি তাঁদের অনেকেই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৭ জন শিক্ষক নানা দাবিতে গত ২৭ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হন অন্যরা। কয়েক দিনের মধ্যেই এ আন্দোলন উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা কর্মসূচিতে পরিণত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগানো হয়। এ বছর ২ ফেব্রুয়ারি সব একাডেমিক ভবনে তালা লাগান আন্দোলনকারীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে উপাচার্য কে এম নূর-উন-নবী বলেন, ‘ইউজিসি আমাকে বলেছে যে, তাঁরা (শিক্ষকেরা) যে বকেয়া বেতনের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন তা ইউজিসি দেবে না। সে ক্ষেত্রে ইউজিসির নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই আমার। আমি সংকট সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্থানীয় সাংসদ আশিকুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বসেছি। আন্দোলনকারীদের তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁরা আজ রোববারের মধ্যে তালা খুলে না দিলে প্রশাসনের সহায়তায় তা ভাঙা হবে। আর তাড়াতাড়ি ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
সংকটের কারণ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সৃষ্টি হয়েছে মূলত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মু. আবদুল জলিল মিয়ার অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে। এ জন্য তাঁকে মেয়াদ পূর্তির আগেই অব্যাহতি দেয় সরকার। আর অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের কারণে আবদুল জলিল মিয়া ও সাবেক রেজিস্ট্রার শাজাহান আলীর নামে দুদক মামলা করে। প্রাথমিক তদন্তে দুদক অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
ইউজিসির বক্তব্য: সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাবেক উপাচার্যের আমলে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়াদের বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email