আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই বিএনপিকে- খাদ্যমন্ত্রী

0
151

বিএনপির আন্দোলন হুমকিকে থোড়াই কেয়ার করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হলে নাকি সরকার তিন দিনও ক্ষমতায় টিকবে না। আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই, ‘সাত মণ ঘি-ও জুটবে না, রাধাও নাচবে না।’ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি আজ আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ হচ্ছে তাদের সাংগঠনিক কোনো শক্তি নেই। নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট দেয়ার মতো শক্তি তাদের নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয় ছিনিয়ে আনার মতো সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই। অথচ তারা হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জাতীয় ঐক্য নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে চাই ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই, আওয়ামী লীগ যদি ইচ্ছা করে, দলের যে কোনো সহযোগী সংগঠন যদি ইচ্ছা করে আপনাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলীন করে দিতে পারে।

কামরুল ইসলাম বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা গণতন্ত্র হত্যা করতে চায়। তাদের রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে সময়ের প্রয়োজন মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এর বেশি সময় লাগে না। অহেতুক আস্ফালন করবেন না। আপনাদের আন্দোলনে মুরোদ কতটুকু সেটা আমাদের জানা আছে।

তিনি বলেন, ৯ বছর পর্যন্ত কিছুই করতে পারেননি। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের পর এই পর্যন্ত আন্দোলন করেছেন, আন্দোলনের কোনো রূপরেখা বা কোনো কর্মকাণ্ডই দেখিনি। আপনারা হুমকি দিচ্ছেন- ঐক্য গড়ে তুলবেন এবং তিন দিনের মধ্যে আমাদের নামিয়ে দেবেন। আরে সাত মণ ঘি-ও জুটবে না, রাধাও নাচবে না।

কামরুল বলেন, এসব নেতার জন্য আমাদের করুণা হয়। যারা এসব আস্ফালন করেন। আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা তাদের টিকিয়ে রেখেছেন। রোজ রোজ একটা সংবাদিক সম্মেলন করে কথাবার্তা প্রচার করে, আর কোনো কিছু নেই। প্রচারের মাধ্যমেই তারা টিকে আছে। বিএনপি ক্রমান্বয়ে একটা প্রচার স্বর্বস্ব দলে পরিণত হচ্ছে। আর কোনো অস্তিত্ব তাদের নেই।

আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির ভরাডুবি নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই আবোলতাবোল বকছে বলেও মন্তব্য করেন কামরুল ইসলাম।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১০টি হোন্ডা ২০টি গুন্ডার নির্বাচন, সেই নির্বাচন চলে গেছে। সবাই পর্যবেক্ষণ করেছে এই নির্বাচন। বিএনপি গাজীপুরের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। তাদের কথাবার্তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বশীল বিদেশি রাষ্ট্রদূতও কথাবার্তা বলেন, তাদের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হয়ে যখন কথাবার্তা বলেন তখনই আমাদের দুঃখ হয়।

বিএনপির সুরে সুর মিলিয়ে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য না করতে রাষ্ট্রদূতদের আহ্বান জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, তাদের কথা আমলে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না। তাদের কথা আমলে নিয়ে কথা বললে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। জনমনে আপনাদের ভূমিকা সম্পর্কেও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্বেগ প্রকাশের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও আমরা দেখেছি। ফ্লোরিডায় ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে কী হয়েছিল। আরও নানা কথাবার্তা আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না।

স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা শিহাব রিফাত আলমের সভাপতিত্বে সভায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Print Friendly, PDF & Email