আরিফ, গউছ হারিসসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

0
229

85527_kibria with arif haris gous
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত সম্পূরক চার্জশিট আদালতে গৃহীত হয়েছে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গউছ, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে হবিগঞ্জ আমলি আদালত ২-এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রশিদ আহমেদ মিলন চার্জশিট গ্রহণ করে অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জামিন নামঞ্জুর করেন। এদিকে চার্জশিট গ্রহণের পর কালেক্টরেট ভবনের সামনের রাস্তায় যুবলীগ-ছাত্রলীগ এবং যুবদল-ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি মিছিল বের করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল গত ১৩ই নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিট হবিগঞ্জ আদালতে দাখিল করেন। গত ৩রা ডিসেম্বর মামলার নির্ধারিত তারিখে তিনি দাখিলকৃত চার্জশিটের ভুল সংশোধন করার আবেদন জানান। আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করে ২১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের আদেশ দেয়। মামলার নির্ধারিত তারিখে আমলি আদালত ২-এ দাখিলকৃত চার্জশিটের শুনানি হয়। শুনানিকালে উভয় পক্ষের শতাধিক আইনজীবী যুক্তিতর্ক আদালতে উপস্থাপন করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট শুনানি শেষে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে চার্জশিটভুক্ত পলাতক ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জামিনের আবেদন জানালে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ৮ই জানুয়ারি। চার্জশিট গ্রহণ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আলমগীর ভূঁইয়া বাবুল। বেলা সোয়া ১টায় চার্জশিট গৃহীত হওয়ার পর আদালত এলাকার বাইরে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং যুবদল-ছাত্রদল পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল বের করে। স্থানীয় কোর্ট মসজিদ এলাকায় উভয় মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা সরে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের বিকেজিসি স্কুলের সামনে বিএনপির হামলায় লাখাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খোকন (২৫), পৌর ছাত্রলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন (২২), রিপন মিয়া (২৩) আহত হন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের হামলায় সদর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ আহমেদ রিপন আহত হন। গুরুতর আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পর পর হাসপাতাল কম্পাউন্ড পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ঘেরাও থাকায় যুবদলের কোন আহত নেতাকর্মীদের ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এদিকে শহরের সিনেমা হল এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা বিএনপির ধাওয়া খেয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান নেয় এবং ৩টি ইজিবাইক, একটি প্রাইভেট কার ও ১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এব্যাপারে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী এনামুল হক জানান, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ একযোগে হামলা চালায়। তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের জনসভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত হন। এ সময় আহত হন ৭০ জন।

Print Friendly, PDF & Email