আলেমরা সঙ্গে থাকলে দেশে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
176

ওলামা-মাশায়েখরা সঙ্গে থাকলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বাংলাদেশে স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার বেলা ১১টায় শরীয়তপুর পুলিশ লাইনস চত্বরে শরীয়তপুর জেলা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং ওলামা-মাশায়েখ ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে জঙ্গি হামলা হওয়ার পর ধারণা করা হতো আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা করেছে। পরবর্তীকালে দেখা গেছে এটা ঠিক নয়। এটা করে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া ছাত্র, যুবক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা, ইহুদি-খ্রিস্টানদের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ ও বিভ্রান্ত হয়ে এটা করছে। তিনি বলেন, এ যাবৎ কোনো মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা জঙ্গি হামলা করেনি।
মন্ত্রী দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলের জন্য স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামীতে পাঠ্যবইতে জঙ্গিবাদবিরোধী ও নৈতিকতার কথা উল্লেখ করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে জঙ্গিবাদবিরোধী শিক্ষা পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মিয়ানমার থেকে বার বার রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তারা সহায়-সম্বল ছাড়া আমাদের দেশে চলে আসছে। সেখানের মহিলাদের পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। যুবকদের হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখনও ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুদের বুকে জড়িয়ে ধরলেন, কাঁদলেন। এ ঘটনা মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর সারা বিশ্ব দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যান বলে আখ্যায়িত করেছে।
ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমরা সাড়ে ষোল কোটি মানুষ খেতে পারলে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখ রোহিঙ্গারাও খেতে পারবে। তিনি সেদিন বলেছিলেন এটাই মানবতা, এটাই ধর্ম।

শরীয়তপুর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক। অন্যদের মধ্যে শরীয়তপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট নাভানা আকতার এমপি, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ঢাকা বিভাগ মোহা. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবা আকতার, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, ঈমাম মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা আবু বকর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধাসহ হাজার হাজার ওলামা-মাশায়েখ অংশ নেন।

Print Friendly, PDF & Email