আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে দ্রুত নির্বাচন দিন: গাজী

0
403

Ruhul Amin Gazi
ঢাকা: বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে আরো ভয়াবহ পরিণাম থেকে পরিত্রাণ পেতে অবিলম্বে সরকারের প্রতি আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা ও দ্রুত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজী।
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড-সহিংসতা বন্ধ, চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন’ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন তিনি এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক সংকট ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের অনঢ় অবস্থানের কারণে সহিংস পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশ।
এই ভয়াবহ সংকট সমাধানে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী ও ব্যাবসায়ী সমাজ উদ্বেগ ও আহ্বান জানানো সত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নাগরিক সমাজ যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়ে অবিলম্বে সংলাপের আহ্বান জানান সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বিএফইউজে এর মহাসচিব এম এ আজিজ, ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা. আবদুস সালাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইএব এর মহাসচিব হারুন উর রশিদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বর্তমান ভয়ংকর পরিস্থিতি, সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের বাসভবনে গুলিবর্ষণ, দেশব্যাপী নির্বিচারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান ও সরকারি দলের মন্ত্রী এমপি কর্তৃক ভিন্নমত দমনে বলপ্রয়োগের হুংকার, অদৃশ্য পন্থায় কঠোর সেন্সরশীপ আরোপ করে মিডিয়ার কণ্ঠরোধ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং দেশব্যাপী ঢালাও গ্রেপ্তার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার জন্যেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক বলেন, ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর প্রহসনের নির্বাচনের পর জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দাবিতে দেশব্যাপী বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলগুলোর আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে পালিত হচ্ছে অবরোধ-হরতাল। অনির্দিষ্টকালের অবরোধের আজ ৩৬ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। সরকার চলমান এই আন্দোলনকে বলপ্রয়োগ করে দমনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে গোটা দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক সহিংস পরিস্থিতি। একদিকে চলছে পেট্রোল বোমা হামলা, অন্যদিকে ক্রসফায়ারে হত্যা। এ অবস্থায় জনজীবনের শান্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত। সারাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ স্থবিরতা।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি ৭৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ঢাকার বাইরে জেলাগুলোর অবস্থা ভয়ঙ্কর। রাতে মহাসড়কে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ পর্যন্ত সহিংসতায় ৯০ জনের প্রাণহাণি ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, চলমান এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তর, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং দেশের নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ। তারা চরম বৈরী অবস্থান থেকে সরে এসে প্রকৃত গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে উভয়পক্ষকে সংকট নিরসনে সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছেন। স্পষ্ট করে তারা বলেছেন, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। সরকার যদি মনে করে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকট থেকে বের হওয়া যাবে তাহলে তারা বিরাট ভুল করবে।
কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, এসব আহবান-অনুরোধ এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। সরকার দিন দিন পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। ২০ দলীয় জোটের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের করর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে বলছে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ এনে সরকারের মন্ত্রীরা তাকে গ্রেপ্তারের পর্যন্ত দাবি জানাচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার কপালে দুঃখ আছে।

Print Friendly, PDF & Email