আস্থা ও সম্মান অর্জনে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা প্রয়োজন: বার্নিকাট

0
180
Marsia Barnicut

ঢাকা: নির্বাচনী সহিংসতা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট। মার্কিন লোকগায়ক পিট সিগারকে উদ্ধৃত করে মার্শা  বার্নিকাট বলেন, যে মানুষ একমত হচ্ছেন না, তার সঙ্গে কথা বলতে শিখতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একুশ শতকে এই  যোগ্যতাটা হারিয়ে যাচ্ছে। আস্থা ও সম্মান অর্জন করতে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কনভেনশন হলে দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত ‘পিপল এগেইনস্ট ভায়োলেন্স ইন ইলেকশনস’ শীর্ষক ‘পিস অ্যাম্বাসেডরদের’ ন্যাশনাল কনভেনশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বলেন, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব সময় পাশে রয়েছে। সারা দেশের পিস অ্যাম্বাসেডরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সহিংসতাবিহীন ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে সমাজে আপনারা ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবেন। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার।

বার্নিকাট বলেন, আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা একজনের থেকে আরেকজনের খুব বেশি ভিন্ন নয়। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক একটি দৃঢ় সম্পর্ক। আমি আনন্দিত এই কারণে যে, আপনারা রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় এবং জাতিগত ভিন্নতা ছাড়িয়ে কার্যকর উপায়ে সমস্যা ও বিতর্কের সমাধান করতে আপনাদের গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। পিস অ্যাম্বাসেডরদের উদ্দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমার ৩০ বছরের কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আপনাদের সামনে যে কাজ রয়েছে তা সহজ হবে না। মানুষ অনেক সময় একগুয়ে হয় এবং সবার মধ্যে ভারসাম্য করা কঠিন। অনেক সময় সমঝোতা করা কঠিন হয়ে পড়ে যা কিনা নিরুৎসাহিত বোধ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মার্সিয়া বার্নিকাট নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে ৩টি পরামর্শ দেন। বলেন, ধৈর্য ধরে লেগে থাকুন। আপনি যা করছেন তাতে যদি কাজ না হয় তবে অন্য কোন উপায় খুঁজুন। সমাজে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন আমরা হই, সেগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ের সমাধান কঠিন। বিকল্প কৌশল প্রয়োগ করতে ভয় পাবেন না। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে আপনার গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার জন্য লেগে থাকার মানসিকতা দরকার। দ্বিতীয়ত, শেখার ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, আস্থা এবং সম্মান অর্জন করতে ভিন্নমতের সহনশীলতা প্রয়োজন। আমি আপনাদের সবাইকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করছি। কৌতূহলী হোন। শুনুন। আমাদের পৃথিবী এবং এর মানুষ বুঝতে পারলে আমরা আরও ভালো প্রতিনিধি হতে পারবো। সর্বশেষ তিনি আশাবাদী হওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশেষ অতিথি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের বলেন, সামাজিক ন্যায় বিচার যদি চান তাহলে সুশাসনের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র চর্চা করলে প্রত্যেকটি মানুষের ভেতরে দায়বদ্ধতা আসে। কিছু বিধিনিষেধ চলে আসে। তিনি বলেন, সব দেশের গণতন্ত্র এক না, কিন্তু ধারণা একই। জিএম কাদের বলেন, জনগণের ক্ষমতার মালিক হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে ইলেকশন। এর জন্য ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন কমিশন তৈরি করা। সে জন্য সব রাজনৈতিক দলকে এক হতে হবে। সেখানে মাসল, মানি পাওয়ার যেন কাজ করতে না পারে। তিনি বলেন, আজকে শান্তির কথা বলা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অশান্তি কখন হয়? যখন সমাজে স্থিতিশীলতা থাকে না। এজন্য স্থিতিশীল সরকার দরকার। যখন ক্ষমতাকে জোর করে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয় তখনই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে রাজশাহীর চারঘাট অঞ্চলের পিস অ্যাম্বাসেডর সাইফুল ইসলাম বাদশা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিব্বির আহমেদ লিটন, খুলনা অঞ্চলের সাঈদ মেহেদী, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের আফরোজ কুসুম কাজ করতে গিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ইউএসএআইডি, ইউকেএআইডি এবং আইএফইএস-এর সহযোগিতায় সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৮টি উপজেলায় সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স ইন ইলেকশনস’ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে ওই প্রকল্পের ‘পিস অ্যাম্বাসেডরদের’ নেতৃত্বে যে সব সম্প্রীতি সম্মেলন, গোলটেবিল বৈঠক ও অহিংস দিবস পালিত হয়েছে, তা স্থানীয় পর্যায়ে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলেই কনভেনশনে উপস্থিত সকলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Print Friendly, PDF & Email