এম.পি লিটন কারাগারে: পুলিশের সাথে সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ২০

0
167

নিউজ ডেস্ক: সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গাইবান্ধায় বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।  এর আগে গতরাতে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিশেষ নিরাপত্তায় আজ বৃহস্পতিবার তাকে গাইবান্ধা নেয়া হয়। দুপুরে তাকে গাইবান্ধা বিচারিক হাকিমের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সাথে তার সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এসময় আহত হন কমপক্ষে ২০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে মনজুরুলকে আদালতে নেয়া হয়। এসময় আদালতের পাশে তার সমর্থকরা মিছিল করতে থাকে। একপর্যয়ে পুলিশ তাদেও সরিয়ে দিতে চাইলে আদালতের পাশেই পলাশবাড়ী সড়কে পুলিশের সাথে সমর্থকদেও সংঘর্ষ হয়।

মনজুরুল গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকার মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা সাংসদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। গতকাল বুধবার রাত থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মিষ্টি বিতরণ চলছে। হাটবাজার ও চায়ের দোকানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

২ অক্টোবর সাংসদ মনজুরুলের ছোড়া গুলিতে সুন্দরগঞ্জ গোপাল চরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শিশু শাহাদাত হোসেন (৯) আহত হয়। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সে এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশু শাহাদাত হোসেনকে গুলি করার ১৩ দিনের মাথায় বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মনজুরুল। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংসদকে গাইবান্ধার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই তাঁকে নিয়ে গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ।
এর আগে দুপুরে সাংসদকে বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চ। গত সোমবার হাইকোর্ট সাংসদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তা স্থগিতের আদেশ দেন।

Print Friendly, PDF & Email