এ রায় জুলুম ও অবিচারের আরেকটি নজির: মাহমুদুর রহমান

0
149

ঢাকা: সম্পদের হিসাব না দেয়ার অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের তিন বছরেরর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমনার আদেশের প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে জুলুম ও অবিচারের আরেকটি নজির স্থাপিত হলো। অন্যায়, আধিপত্যবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে লড়াই অব্যাহত থাকবে। যেকোন অবস্থা মোকাবেলা, গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার লড়াই অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। এটিই আদালতের সর্বোচ্চ সাজা।

রায় ঘোষণার সময় মাহমুদুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর মাহমুদুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে জুলুম ও অবিচারের আরেকটি নজির স্থাপিত হলো। যেকোন অবস্থায় গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং ফাসিবাদী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে তার লড়াই অব্যাহত থাকবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আদালতকে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে সরকার তাকে এ সাজা দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে তিনি আপিল করবেন। তিনি বলেছেন, কারাদণ্ড কেন প্রয়োজনে তিনি এ জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কারণ আমি সরকারপ্রধানের পুত্র ও জ্বালানি উপদেষ্টাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। জজ সাহেব সরকারপ্রধানকে খুশি করতে আইনবহির্ভূত এ রায় ঘোষণা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলায় বাদী কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি। এরপরও বেআইনিভাবে আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এক স্কাইপ কেলেঙ্কারির জন্য আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একই কাজ জনকণ্ঠ ও একাত্তর টেলিভিশন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তাহলে দেশে কোথায় আইনের শাসন!’
কোর্ট থেকে বেরিয়ে প্রিজনভ্যানে ওঠার সময় মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে জুলুম ও অবিচারের আরেকটি নজির স্থাপিত হলো। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা (জহিরুল হুদা) সাক্ষ্য দিতে এসে পালিয়ে গেছেন। তিনি সাক্ষ্য দিলে সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসত। ফ্যাসিবাদী এ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। এ লড়াই থামবে না।’

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ৫ বছরে দুইবার দণ্ডিত হলেন এক সময় বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। আমার দেশ পত্রিকায় সরকারের দুর্নীতির খবর প্রচারের পর থেকেই রোষানলে পড়েন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

আদালতে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান, তাজুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন নিয়ন এবং দুদকের পক্ষে এ্যাডভোকেট কাজল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আমার দেশ এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ,কবি হাসান হাফিজ ও আমার দেশ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, হাছিন আহমেদ, চুন্নুসহ পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে মাহমুদুর রহমান দুই দফায় তিন বছর একমাস ছয় দিন কারাভোগ করেছেন। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন তার কারাভোগ প্রাপ্ত সাজা থেকে বাদ যাবে।

Print Friendly, PDF & Email