কেন আইন বিষয় পড়বেন ?

0
604

হুমায়ুন কবির: বাংলাদেশে আইনের শিক্ষার্থীদেরকে পরিবারে ও সমাজে অবধারিতভাবে যে অনিবার্য প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয় তা হচ্ছে- ‘Law পড়বি কি Liar হওয়ার জন্য ?’ অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ ধরেই নেয়- ‘ল’ পড়ে ‘লইয়ার’ বা তাঁদের ভাষায় লাইয়ার (মিথ্যাবাদি) হওয়া ছাড়া আর বুঝি কোন গত্যন্তর নাই। কিন্তু তাঁরা আসলে ‘জানেনা যে তাঁরা জানে না’ ( They don’t know that they don’t know )- আইন পড়া একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার পরিধি কতোটা বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় ! আসুন, তাহলে দেখি-
১। ‘আইন পড়ে কী হওয়া যাবে না?’- এটির অস্তিবাচক রূপ হচ্ছে আইন পাশ করে আইন সংশ্লিষ্ট বা আইন বহির্ভূত সব কিছুই আপনি হতে পারবেন। ‘সবকিছু’ মানে আক্ষরিক অর্থেই ‘সবকিছু’। আইন পড়ে কেউ আইনজীবী হতে না চাইলেও তাঁর জন্য সরকারি- বেসরকারি চাকুরির দুনিয়া খোলা। অর্থাৎ, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা যে সব চাকুরিতে আবেদনের যোগ্য- আইনের একজন শিক্ষার্থী সেসব পদে অনায়াসেই আবেদন করতে পারে, প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দিতে পারে।
২। বিসিএসঃ আইন থেকে পাশ করে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতোই আপনারা বিসিএস এর সমস্ত ক্যাডার যেমন- ফরেন সার্ভিস, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টম, আনসার ইত্যাদি সব নন- ট্যাকনিক্যাল ক্যাডারে একজন ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। বিসিএস এর কোন নন- ট্যাকনিক্যাল ক্যাডারেই নিয়োগ পাওয়ার জন্য অনার্স- মাস্টার্সের বিষয় আলাদা শর্ত নয়। আইন থেকে পাশ করে বিসিএস এর বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ লাভের উদাহরণ ভুরিভুরি।
৩। সহকারী জজ/ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটঃ কিন্তু আইনের স্নাতকদের জন্য আলাদাভাবে আছে ‘জুডিসিয়াল সার্ভিস’ অর্থাৎ, সহকারী জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ‘সরকারি ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার’ হওয়ার সুযোগ। বিসিএস ক্যাডারের তুলনায় এখানে পরীক্ষার প্রতিযোগিতা কম কিন্তু বেতন বেশি (৩০% বর্ধিত বিচারিক ভাতা) ! এই পদে নিয়োগলাভের সুযোগ শুধুই আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
৪। শিক্ষকতাঃ ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকলে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়াও প্রায় 70 টির কাছাকাছি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আইনের একজন সদ্য মাস্টার্সধারী ‘লেকচারার’ হিসেবে উচ্চ বেতনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পায়। আইনের ভালো ফলধারীর জন্য বিকল্প অজস্র ক্যারিয়ার সম্ভাবনার কারনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে উপযুক্ত শিক্ষক সংকট লেগেই থাকে। তাই একাডেমিক ফলাফল মোটামুটি ভালো হলে এবং শিক্ষকতার ন্যূনতম ১/২ বছরের অভিজ্ঞতা ও গবেষণা প্রবন্ধ থাকলে মোটা অংকের বেতনের চাকুরির পেছনে আপনাকে দৌড়াতে হবেনা, চাকুরিই আপনাকে খুঁজে নেবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নয় বরং আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন- কোথায় ও কতো বেতনে জয়েন করবেন ! এই সেক্টরে চাহিদা এমনই বেশি যে অনার্সে ভালো ফল থাকলে মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার আগেই অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আইনের যোগ্য প্রার্থীকে ‘অগ্রীম এপয়েন্টমেন্ট লেটার’ দিয়ে বুকড করে রাখে ! বুঝেন অবস্থা !
এছাড়াও পাবলিক ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ‘ল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ তো বহাল আছেই !
৫। সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীঃ একজন আইনের শিক্ষার্থী লেফটেন্যান্ট, সাব লেফটেন্যান্ট, ফ্লাইং অফিসার হয়ে কমিশন্ড অফিসারের পদমর্যাদায় সেনা, নৌ কিংবা বিমানবাহিনীতে স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘জাজ এডভোকেট জেনারেল’ (JAG) বিভাগে যোগ দিতে পারেন। সামরিক আইন-আদালত ও সামরিক বিচার নিয়ে এদের কাজ কর্ম। এই সুযোগ শুধু আইনের শিক্ষার্থীদের !
৬। ব্যাংক, বীমা, কোম্পানি, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানঃ অনেকের ভুল ধারণা আছে ব্যাংকার হওয়ার জন্য বিবিএ, এমবিএ অত্যাবশ্যক। সত্য নয়। বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি বা অন্যান্য বিষয়ের মতো আইন থেকে পাশ করেও যে কেউ ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগ দিতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন ব্যাংক, বীমা, কোম্পানি, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে ‘ কর্পোরেট আইন বিভাগ’ নাই। এই বিভাগে ল’ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার একটাই শর্ত- আইনের ডিগ্রিধারী হতে হবে। তারমানে সাধারণ ব্যাংকিং, কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সাধারণ অফিসার হিসেবে আবেদনের পাশাপাশি আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ শুধু আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্যই সংরক্ষিত ! এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল সাইড)’ পদে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে আবেদনের পাশাপাশি আইনের ডিগ্রিধারীরা ‘সহকারী পরিচালক (লিগ্যাল সাইড) পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ পায়। এবং এটি আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।
এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান আবার অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্র্যাকটিসিং লইয়ারদের কে ‘প্যানেল আইনজীবী’ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও দিয়ে থাকে। এটি আইনজীবীদের জন্য আরেকটি বাড়তি সুযোগ।
৭। ন্যাশনাল ও মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিঃ দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, হিউম্যান রিসোর্স ইত্যাদি জেনারেল সাইডের বিভাগে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে আইনের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে। ভোগ্য পণ্য কোম্পানী- ইউনিলিভার, নেসলে, সিগারেট কোম্পানি- ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, জুতা কোম্পানি- বাটা, এপেক্স, স্টিল তৈরির কোম্পানি- BSRM, KSRM, তারকা হোটেল- রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, রূপ চর্চার বিউটি পার্লার থেকে শুরু করে গ্রামীন ফোন, এয়ারটেল ইত্যাদি মোবাইল অপারেটর পর্যন্ত প্রায় সব ন্যাশনাল কিংবা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতেই ‘কর্পোরেট লিগ্যাল এফেয়ার্স’ বিভাগ আছে। আর যেখানেই লিগ্যান ডিভিশান সেখানেই ‘ল’ ডিগ্রিধারী প্রার্থীর চাহিদা। আর এসব পদে নিয়োগ লাভ শুধুই আইনের জন্য সংরক্ষিত !
এছাড়া আইনের একজন স্নাতক যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Human Resource Management কে মেজর নিয়ে ইভেনিং বা এক্সিকিউটিভ এমবিএ ডিগ্রি নিতে পারেন। অথবা নিদেনপক্ষে Post Graduate Diploma in Human Resource Management (PGD in HRM) এই ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিতে পারলে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কর্পোরেট হাউস, ব্যাংক, অন্যান্য কোম্পানী কিংবা গার্মেন্টেস সেক্টরে ‘হিউম্যান রিসোর্স অফিসার’ হিসেবে যোগ দেওয়ার বিরাট সুযোগ রয়েছে কারন ল ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট খুব ঘনিষ্ট সম্পর্কিত। কোন কোম্পানি যদি এই দুই বিষয়ে একই সাথে ডিগ্রিধারী যোগ্য কোন প্রার্থীকে পায় তাহলে দুই বিভাগে আলাদা দু’জন লোক নিয়োগের বিলাসিতার বদলে একজনকেই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে- এবং বুঝতেই পারছেন সেটি আপনিই !
৮।রিয়েল এস্টেট কোম্পানিঃ জায়গা জমি, এপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট আর চুক্তিনামা ও চুক্তিভঙ্গ নিয়েই যেহেতু এদের কাজ- কাজবার তাই সেখানে গ্যাঞ্জাম আর বিরোধের সমূহ সম্ভাবনা। যেখানেই বিরোধ সেখানেই আইন। যেখানেই আইন সেখানেই আইনের ডিগ্রিধারী কর্মকর্তা দরকার। তাই দেশের রিয়েল এস্টেট বিজনেস কোম্পানিগুলোতে ‘আইন কর্মকর্তা’ হিসেবে আইনের ডিগ্রিধারীদের দরজা সংরক্ষিত। ও হ্যাঁ, এর বাইরে এসব কোম্পানির অন্যান্য ডিভিশনেও কিন্তু আইনের শিক্ষার্থীদের আবেদনে কোন বাধা নাই !
৯। সরকারি বেসরকারি এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থাঃ এসব সংস্থার যে কোন ডিভিশনে অন্যান্য বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের সাথে কাজ করার সুযোগের পাশাপাশি একজন আইনের শিক্ষার্থীর সুযোগ আছে এসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ‘ল ডিভিশন’ এ নিয়োগ পাওয়ার। আবার অনেকগুলো এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থা আছে যাদের মূল কাজটাই হচ্ছে আইনগত সহায়তা নিয়ে। যেমনঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বেলা, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, ব্র্যাক ইত্যাদি। যেখানেই আইন নিয়ে কাজ সেখানেই আইনের ডিগ্রিধারী চাই। আইন ভিন্ন আর কারো সুযোগ নাই !
১০।আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশী দূতাবাসঃ আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংস্থা যেমন UNHCR, UNDP, WHO, Save the Children, IOM, ILO ইত্যাদিতে আছে আইন সংশ্লিষ্ট নানান কাজের সুযোগ। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাসগুলোতেও ‘আইন কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগের সুযোগ আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে।
১১। সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত কমিশন ও প্রতিষ্ঠানঃ দুদক, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ওয়াসা, পিডিবি, পেট্রো বাংলা, বাপেক্স সহ প্রায় সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত কমিশন ও প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা ও প্যানেল আইনজীবী হিসেবে আইনের ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ লাভের অবারিত সুযোগ আছে।
১২। গার্মেন্টস অডিট ও কমপ্লায়েন্সঃ গার্মেন্টস খাতের সাথে শ্রম আইন, নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকারের বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গার্মেন্টস কোম্পানি ও বাইয়িং হাউজগুলো এসব বিষয় অনুপুঙ্খভাবে নজরদারি করার জন্য অডিটর ও কমপ্লায়েন্স ডিভিশনে আইনের ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এই অডিটিং ও কমপ্লায়েন্স সেক্টরটি এখনো নতুন ও সম্প্রসারণশীল। তাই আইনের ডিগ্রি নেওয়া শেষ করে আপনারা BGMEA Institute of Fashion &Technology (BIFT) Chittagong, Bangladesh Institute of Management (BIM), কিংবা Bangladesh Garment Management Institute (BGMI) এর অধীনে ‘Diploma in Social Compliance, Labour law and HRM’ এই ডিগ্রি নিয়ে সহজেই এই সেক্টরে উচ্চ বেতনে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। একই সাথে আইন জানে আবার কমপ্লায়েন্স ও অডিটিং ডিগ্রিও আছে- এমন প্রার্থী কোম্পানি হাতছাড়া করতে চাইবেনা।,
১৩। ‘সহকারী আইন সচিব’: আইনের ডিগ্রিধারীরা বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘Legislative Drafting Wing’ এ ‘সহকারী আইন সচিব’ হিসেবে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে পারে।
১৪।পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি): আইনের ডিগ্রিধারী এনরোল্ড আইনজীবীরা আদালতে সরকারি আইন কর্মকর্তা বা পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) ও এপিপি হিসেবে নিয়োগ পেতে পারে।
১৫। আইনজীবীঃ বেশিরভাগ আইনের ডিগ্রিধারীর প্রথম স্বপ্নই থাকে একজন আইনজীবী হবে। কিন্তু আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ থাকায় এবং চোখের সামনে এতো এতো নগদ অপশন থাকায় বেশিরভাগ আইনের শিক্ষার্থীই কিন্তু প্র্যাকটিসিং লইয়ার হয়না। সবার শেষে আইনজীবী ‘অপশান’ টি নিয়ে কথা বলার একটাই কারন এটি দেখানো যে আইনজীবী পেশায় না গিয়েও আইনের ডিগ্রি নিয়ে আপনি আরো কতো কী করতে পারেন ! এই লিস্টে যা কিছু বলেছি তারচেয়ে ঢের বেশি কিছু আপনি করতে পারবেন- যশ, সম্মান, প্রতিপত্তি ও অর্থ- সবই অর্জন করতে পারবেন আইনজীবী পেশা বেছে নিলে। এডভোকেট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে নিম্ন আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করতে পারবেন, পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যায়। সেখানে কাজের ক্ষেত্র এতোই বিশাল যে আপনি স্পেশালাইজড ল প্র্যাকটিস বেছে নিতে পারন। এর পরে হতে পারেন আপীল বিভাগের সিনিয়র লইয়ার।
পারিবারিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট করা ছাড়াও আপনি চাইলে হতে পারেন ‘ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার’। হতে পারেন ‘কর্পোরেট লইয়ার’ অর্থাৎ, কন্ট্রাক্ট ল, কম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, সিকিউরিটি ল, দেউলিয়া আইন, মেধাস্বত্ব- ট্রেডমার্কস- পেটেন্ট নিয়ে ল প্র্যাকটিস করতে পারেন। অবারিত সুযোগ আছে পরিবেশ আইনজীবী ও এডমিরাল্টি লইয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার। আইন বিষয়ে পড়েও বা অ্যাডভোকেট হয়েও যাদের আইন নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা কিন্তু কোর্টে যেতে অনীহা তাঁরা চাইলেই বিভিন্ন ল ফার্মে ‘In house Lawyer’ হিসেবে বিভিন্ন কম্পানির ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত, লিগ্যাল অ্যাডভাইস দেওয়া, ফাইল তৈরি, মামলার ড্রাফট তৈরির কাজ করতে পারেন। এর বাইরে বাংলাদেশে তেমন প্রচলন না থাকলেও সাইবার ক্রাইম, ইমিগ্রেশন, স্পোর্টস ও মিডিয়া আইনজীবী হিসেবে স্পেশালাইজড হলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পেতে পারেন কাজের সুযোগ।
তাই আইন পড়া জীবন- আদতেই একটা আলাদা জীবন। এ জীবন সবাই পায় না…!
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, আইনবিভাগ- সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটি।

Print Friendly, PDF & Email