ক্ষমতাসীনদের দম্ভ ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে: ২০ দলীয় জোট

0
173

20 Dol
ঢাকা: সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ২০ দলীয় জোট বলেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের ফলে দেশের এই অবস্থা হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু আজ এক বিবৃতিতে বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে শত ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল প্রয়োগ করেও অতীতের স্বৈরশাসকরা যেমন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, একইভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের দম্ভও ধুলিস্যাৎ হবে।
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান লুটেরা ও খুনি সরকার তাদের অপশাসন ও অবৈধ কর্মকাণ্ডকে জনদৃষ্টির আড়ালে রাখতে জনপ্রশাসন, বিচারবিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেই তাতে বিরোধী দলের সম্পৃক্ততার কল্পকাহিনী প্রচার করে যাচ্ছে।
বুলু বলেন, বরগুনা জেলার তালতলীর হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ব্যতিরেকে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের দায়ী করা হচ্ছে। অথচ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সরকার দলীয় লোকজনই জড়িত বলে এলাকাবাসীর দাবি। স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগ দলীয় লোকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের যত সম্পত্তি দখল ও আত্মসাৎ করেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘর দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছিল সরকার দলীয় লোকজন। যা পরবর্তীতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, সরকারের লুটেরা প্রবৃত্তির কারণেই আজ দেশের সর্বত্র টেন্ডারবাজি, জমি-নদী-খাল-ডোবা এমনকি সরকারি সম্পত্তিও তাদের দখল ও আত্মসাতের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। প্রতিদিনের সংবাদপত্রে এ সব ঘটনার খবর নিয়মিত প্রচার ও প্রকাশিত হচ্ছে।
সম্পত্তি, অর্থ, হাট-বাজার, ব্যাংকের অর্থ, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠনের মতো দুর্নীতি করতে করতে বিরোধী দলীয় জনপ্রতিনিধিদের পদও আজ দখলের নগ্ন থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে। এটাই হলো বর্তমান অবৈধ তুঘলকী শাসনের বাস্তব চিত্র।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফলে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। জনগণ আওয়ামী লীগের এই জঘন্য অপশাসন থেকে মুক্তি চায়।
তিনি বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের অবাধ বিচরণ এবং অবৈধ সরকারের মন্ত্রী, এমপি, প্রার্থী ও সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে উদাসীনতার কারণেই তিন সিটি কর্পোরেশনের ভোটার ও নাগরিক সমাজ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সন্দিহান ও শঙ্কিত।
বুলু আরো বলেন, স্বৈরশাসনের নগ্ন থাবা ও দেশের অচলাবস্থা নিরসনে জনগণ অচিরেই তাদের কাঙ্খিত মুক্তি তথা ভোটের অধিকার, নাগরিক অধিকার, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেই। জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে শত ষড়যন্ত্র ও কুটকৌশল প্রয়োগ করেও অতীতের স্বৈরশাসকরা যেমন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল; ঠিক একইভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের দম্ভও ধুলিস্যাৎ হবে।
অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংঘাত ও নৈরাজ্যের কবলমুক্ত এবং ২০ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের কারাবন্দী নেতা-কর্মীর অবিলম্বে মুক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে রিমান্ডের নামে হয়রানি বন্ধ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি প্রত্যাশা করেন, সরকার অবিলম্বে বিএনপির অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিরোধী দলের গুমকৃত অন্যান্য নেতা-কর্মীদেরকে অক্ষত ও সুস্থ অবস্থায় তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিবে।
আজ দেশজুড়ে ২০ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হওয়ায় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

Print Friendly, PDF & Email