খোলা জায়গায় পায়খানা করবেন না: জাতিসংঘ

0
454

93560_1
ঢাকা: ইবোলার কবল থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহার করাও জরুরি। বিশ্ব টয়লেট বা শৌচাগার দিবসে তাই বিশ্ববাসীর প্রতি খোলা জায়গায় শৌচকর্ম না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ গত বছর ১৩ নভেম্বরকে ‘বিশ্ব শৌচাগার দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার সারা বিশ্বে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় একশ’ কোটি মানুষ এখনো বনে-বাঁদাড়ে, নদী বা খালের তীরে, কিংবা রাস্তার পাশে শৌচকর্ম, অর্থাৎ মলত্যাগ বা পায়খানা করেন। প্রায় আড়াইশ’ কোটি মানুষের জন্য উন্নত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে নানা ধরনের রোগ ছড়ায়।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, ইবোলা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে যেখানে-সেখানে মলত্যাগের অভ্যাস বেশ বড় ভূমিকা রাখছে। ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার আগে থেকেই পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে সবাইকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মলত্যাগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছিল। বুধবার এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানায়, দেশবাসীকে ঘরের বাইরে মলত্যাগ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানোর পর, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘ইবোলামুক্ত’ হয়েছে নাইজরিয়া।
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ খোলা আকাশের নীচে পায়খানা-প্রস্রাব করে। সে দেশের প্রায় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যায়। ইবোলা আক্রান্ত আরেক দেশ লাইবেরিয়ার অর্ধেক মানুষেরই ঘরে কোনো টয়লেট নেই।
বিশ্বে মোট যত মানুষ ঘরের বাইরে মলত্যাগ করে তার প্রায় অর্ধেকই ভারতের। এরপরই আছে এশিয়ার অন্য চার দেশ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, নেপাল এবং চীন।
যেখানে-সেখানে শৌচকর্ম করার কারণে নারী এবং শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবানুযুক্ত পানি পান করা এবং অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ব্যবহার করার কারণে বিশ্বে প্রতি আড়াই মিনিটে একজন শিশু মারা যায়।
জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জেন এলিয়াসন জানান, বিশ্বের অনেক দেশে স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ শৌচাগার না থাকায় নারী শিক্ষাও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে অনেক পরিবার কন্যা সন্তানকে স্কুলে পাঠায় না। ঘরের বাইরে শৌচকর্ম করতে গিয়ে অসংখ্য নারী ধর্ষণের শিকার হন বলেও জানিয়েছেন জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি।

Print Friendly, PDF & Email