গণভবনে করজোড়ে কাঁদলেন কামরুল

0
240

Kamrul 04
ঢাকা: অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে সরকারপন্থী আইনজীবীদের জয় নিশ্চিত করতে নেতৃস্থানীয় আইনজীবীদের উদ্দেশে গণভবনে করজোড়ে কাঁদলেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যডভোকেড কামরুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে আসন্ন সুপ্রিম কোর্টবার নির্বাচনে আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়। এই সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে সভাপতি পদে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মমতাজ উদ্দিন মেহেদীর নাম ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বক্তৃতাকালে নিজের বক্তৃতায় কামরুল ইসলাম করজোড়ে এই নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মমতাজ উদ্দিন মেহেদী মঙ্গলবার নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পর এই প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একাধিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে নিজেদের দখলে থাকলেও মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে সমিতিতে নিজেদের অবস্থান খুবই নাজুক এবং চলমান সংকটের সময় সমিতিকে দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করছে সরকারবিরোধী আইনজীবীরা- গণভবনে সরকারপন্থী আইনজীবী নেতাদের বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে আসে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এ সময় নেতাদের অবদানের বিষয় উল্লে¬খ করে সব ভেদাভেদ ভুলে নিজেদের জয় নিশ্চিত করার বিষয়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান বলেও জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৪-১৫ সালের নির্বাচনে মোট ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ পদে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেলকে একটিমাত্র সদস্য পদে বিজয় অর্জন করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দোলসহ বেশ কিছু কারণে সরকারসমর্থিত আইনজীবীদের এ ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লে¬ষকরা। তারা মনে করেন অন্ত:কোন্দল, ক্ষোভ, রাগ, মান-অভিমানের প্রতিচ্ছবির প্রতিফলন ঘটেছিল গত বছরের নির্বাচনে। দফায় দফায় বৈঠক, আলোচনা-পর্যালোচনা করে একসঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ভেতরে ভেতরে ছিল হিংসা-বিদ্বেষ আর রেষারেষি। নিজেদের কোন্দল গোছাতে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লি¬ষ্টতায় এবার প্রধান দুটি পদের জন্য ব্যক্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারপন্থী আইনজীবী প্যানেলের নেতা রবিউল আলম বুদু বলেছিলেন, ‘হয়তো বা কোথাও কোনো ত্রুটি ছিল। এখনই সংশোধন না হলে এমন পরাজয় বার বার বরণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী ঘরানা আইনজীবীরা ২০০০ সাল থেকেই আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ, জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে বিভক্ত। আর এ বিভক্তির কারণের তারা বার বার পরাজিত হয়েছে।
এরশাদ আমলে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এরশাদ বিরোধী আইনজীবীরা জোট গঠন করে নির্বাচন শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল দলের সমর্থক আইনজীবীদের নিয়ে গঠন করা হয় সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। সেই থেকে এ সংগঠন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছে। এক পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের ফোরাম গঠিত হয়। জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও তাদের সমর্থন দিচ্ছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরেই আইনজীবীদের নেতৃত্ব ধরে রাখে আওয়ামী জোট। তাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংগঠনও যুক্ত হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু এমন শোচনীয় পরাজয়ের মুখে কখনো পড়েনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের এ জোট।

Print Friendly, PDF & Email