গোলাপগঞ্জ এলপিজি প্লান্টের কোটি টাকার গ্যাস কেলেংকারীর ঘটনায় ৭জন বদলী

0
158

আব্দুল অলিম, সিলেট থেকে: গোলাপগঞ্জে এলপিজি গ্যাস প্লান্টে কোটি টাকা গ্যাস কেলেংকারীর ঘটনায় সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলীর আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় দৈনিক একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এ বদলীর আদেশ দেয় বাংলাদেশ কৈলাল টিলা গ্যাস ফিল্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন, প্লান্টের বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণের উপ-ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন খান, উপ-প্রধান হিসাব সহকারী কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ, সহকারী টেকনিশিয়ান ফয়ছল আহমদ খাঁন, সিনিয়র টেকনিশিয়ান ইদ্রিস আলম, সহকারী টেকনিশিয়ান মোস্তাক খান, টেকনিশিয়ান খন্দকার আবুল খায়ের ও মাতলুম আহমদসহ ৭জনকে বদলি আদেশ দেওয়া হয়। তাদের রবিবার চট্রগ্রাম এলপিজি গ্যাস ফিল্ডে জয়েন্ট করার কথা রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের আগ থেকেই গুপনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দুর্নীতির সাথে জড়িত। এই বিষয় মাথায় রেখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ( বিপিসি) তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এক কোটি টাকার গ্যাস কেলেংকারীর ঘটনায় তদন্ত করতে মাঠে নেমেঠে তদন্তকারী দল। প্রায় ১ কোটি টাকার গ্যাস দুর্নীতির ঘটনাটি প্রাথমিভাবে ধামাচাপা দিলেও পরে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তকারী প্রাথমিক ভাবে ১শ’ টন গ্যাস কেলেংকারীর ঘটনা ধরা পড়লেও পরবর্তিতে ১২০ টন ধরা পড়ে। এদিকে দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচতে উচ্ছ মহলে তদবির শুরু করেছে গ্যাস খেকো চক্ররা। অনেকে দিয়েছেন গা ঢাকা। এলপিজি গ্যাস প্লান্টের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে ধরা পড়ে প্রায় এক কোটি টাকার গ্যাস কেলেংকারীর ঘটনা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)  এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। জিএম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সূত্র জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক ও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া একটি চক্র অবৈধ ভাবে বোতলজাত গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। এর নাটের গুরু গোলাপগঞ্জ পৌর সদরের রণকেলী এলাকার ফকির আলীর পুত্র সুহেদ আহমদ,শ্বরসতি এলাকার (বড়বাড়ী)র মৃত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রজাক আলীর পুত্র ছদরুল ইসলামসহ তিনজন। এদের ব্যবসায়ীক পাটনার হিসেবে রয়েছেন এলপিজি প্লান্টের সহকারী টেকনিশিয়ান মনছুর ফকির,টেকনিশিয়ান টেকনিশিয়ান ইদ্রিস আলী, আলমগীর শিগদার,সহকারী হিসাব রক্ষক শেখ মোস্তফিজুর রহমান,সুবেদার ইবনুল হাসান, নিরাপত্তাকর্মী ইউসুফ,সিনিয়র টেনিশিয়ান ফয়ছল আহমদ,মোঃ শাহ নূর ও দিদারুল আলম। এরা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি থেকে ওখানে চাকুরী করার সুবাদে এই লোটপাটে জড়িয়ে পড়ে। অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি করে তারা হয়েছেন কোটি-কোটি টাকার মালিক। নামে-বেনামে ব্যাংক একাউন্ট ছাড়াও গাড়ী বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থারা তদন্ত করলে অন্দরমহলের আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী মনে করেন। গত ২০১৩ সালের মার্চ মাসে পৌর সদরের খাসিখাল সংলগ্ন অবৈধ বোতলজাত গ্যাস বিক্রির প্রতিষ্ঠান সুহেদ এন্টার প্রাইজে অবৈধভাবে বিশেষ যন্ত্রেও মাধ্যমে ২বোতল দিয়ে ৩ বোতল বানানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে  গোলাপগঞ্জ পৌর সদরের ৭নং ওয়ার্ডের জাহিদ আহমদ (১৮), ৮নং ওয়ার্ডের শ্যামল উদ্দিন (২২) ও ফজল আহমদ (২০) নির্মম ভাবে নিহত হন। ঘটনার থানায় মামলা করতে চাইলে অপরাধী চক্ররা মামলা করতে দেয়নি ক্ষতিগস্থ পরিবারদের। ফলে অসহায় এই পরিবারে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। প্রচণ্ড বিস্ফেরণের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবারো সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

গত মাসের ১৮ই সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রানাপিং তহিপুর এলাকার একটি ব্রিকস ফিল্ডের অফিস রুমের পাশে খালি ঘরে বিপিসির অনুমোদিত এলপিজি ভরা বোতল থেকে খালি বোতলে গ্যাস স্থানান্তর করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আখলিছ (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু ঘটে। অপর ২জন গোলাপগঞ্জ পৌর সদরের রণকেলী গ্রামের রুবেল আহমদ সাগর, পৌর ৭নং ওয়ার্ডের স্বপন আহমদ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই অবৈধ ব্যবসার মালিক ছদরুল ইসলাম ও সুহেদ আহমদ।এছাড়া প্লান্টের উপ ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন খাঁন ঢাকা থেকে নিম্নমানের কম মূল্যের মেশিনারীজ যন্ত্রাংশ ক্রয় করে চড়াও মূল্যে ভূয়া ভাউচারে এলপিজির কাছে বিক্রি করছেন। এভাবে তিনি অবৈধ পথে তিনি ইনকাম করছেন লাখ-লাখ টাকা। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্টের ম্যানেজার ফশিউর রহমানের সাথে ০১৭১১১৩৪৯৫১যোগাযোগ করা তিনি ফোন রিসিব করেননি। তাছাড়া আলমগীর শিগদার, সহকারী টেকনেশিয়ান মনসুর ফকির, টেকনেশিয়ান ফয়সল আহমদ, সুবেদার ইবনুল হাসান, ইউসুফ, সহকারী টেকনেশিয়ান মোশারফ হোসেন বদলী না হলেও তদন্ত অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন দুর্নীতির দায় থেকে রেহাই পেতে।

Print Friendly, PDF & Email