গোলাম আযমের ছেলের বক্তৃতায় কান্নার রোল

0
140

91834_1ঢাকা: অধ্যাপক গোলাম আযমের চতুর্থ ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, গোলাম আযমের সঠিক মূল্যায়ন সেদিন হবে যেদিন এদেশে দ্বীন বিজয়ী হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল্লাহিল আমান আযমী গোলাম আযমের চতুর্থ ছেলে। পিতার জানাজায় তিনিই ইমামতি করেন। জানাজার আগে উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কান্নার রোল শুরু হয়।

আমান আযমী বলেন, পৃথিবীর ক্ষণজন্মা মানুষদের একজন অধ্যাপক গোলাম আযম। ছেলে হিসেবে তার জানাজার দায়িত্ব পালনের সুযোগের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাজার জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ কষ্ট করে যারা এখানে হাজির হয়েছেন তাদের সবাইকে আমি, আমার মা এবং পরিবারের সদস্যদের প থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনাদের মতো আমিও আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এখানে হাজির হয়েছি। তাই হয়ত গুছিয়ে কথা বলতে পারব না। আপনারা  সেজন্য আমাকে মা করে দিবেন।

তিনি বলেন, আমার পিতাকে মিথ্যা মামলায় ১০১৬ দিন তালাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এর প্রতিটি দিন আমার পিতার জন্য, আমার পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের জন্য ছিল বেদনার। আমার পিতা সারা জীবন আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দিন প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করে গেছেন। এটাই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আপনারা অধ্যাপক গোলাম আযমকে ভালোবাসেন না। আপনারা ভালোবাসেন দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত একজন কর্মী গোলাম আযমকে। তার বিদায় মানে ইসলামী আন্দোলনের বিদায় নয়। এদেশে আরো লাখো লাখো গোলাম আযম তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ, যারা একদিন এদেশের মাটিতে ইসলামের বিজয় পতাকা ওড়াবে, ইসলামকে বিজয়ী করবে।  তার বক্তব্যের এ পর্যায়ে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ উচ্চস্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাদের সবাইকে তিনি শান্ত হবার অনুরোধ করে বলেন, আমার পিতা কর্মজীবনে দেশের আনাচে কানাচে সফর করেছেন। অনেকের সাথে কথা বলেছেন, কাজ করেছেন। এসব কাজের সময় যদি তার নিজের অজান্তেও কোনোদিন কেউ যদি কোনো কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে, দয়া করে তাকে মাফ করে দিবেন। আমার পিতাকে আল্লাহ শহীদের মর্যাদা দান করুন, জান্নাতবাসী করুন।  সবাই এসময় আমিন আমিন বলে ওঠেন উচ্চস্বরে।

আমান আযমী বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের সঠিক মূল্যায়ন সেদিন হবে যেদিন এদেশে দ্বীন বিজয়ী হবে। ইনশাআল্লাহ একদিন এদেশে দ্বীন বিজয়ী হবে। জান্নাতে যেন আমার পিতার সাথে আমার দেখা হয় সেই দোয়া আপনারা করেন। এরপর তিনি জানাজার ইমামতি শুরু করেন।

Print Friendly, PDF & Email