জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৫০, গুলি বর্ষণ

0
247

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সামনে সভায় বক্তব্য রাখা নিয়ে আওয়ামীলীগের তিন দফা হামলার ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজারে। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে রাণীগঞ্জ বাজারে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। সভায় রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজমল হোসেন মিঠুর বক্তব্য চলাকালে রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সুন্দর আলী বাধা দিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রীর সামনে হাজী সুন্দর আলীর লোকজন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের উপর দুই দফা হামলা করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান চলে যান। প্রতিমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিন দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সুন্দর আলীর লোকজন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ রাউন্ড ফাকাগুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। সংঘর্ষে রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজমল হোসেন মিঠু, সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান হিবলু, সুমন মিয়া, কাশেম আলী, শহীদুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন মায়া, সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী, শাহীন মিয়া সুমন, ফখরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ফুলকাছ মিয়া, পরাশ মিয়া, শাহীন মিয়া, হাসান তালুকদার, সেকুল ইসলাম, শফিক আলী, শিপন মিয়া, আকবর আলী, রুনু মিয়া, নুর আলম, রাজিব মিয়া, জুয়েল মিয়া, তোফায়েল আহমদ, কাওছার আহমদ, আহাদ, মোতাহির আলী, মুজিব মিয়া, বাদশা মিয়া, খলিল মিয়া, সানি মিয়া, লিপু মিয়া, দিলদার আলী, মিশন মিয়া, মাহবুব মিয়া, শায়েক মিয়া, সাদিক মিয়া, ফখরুল ইসলাম শান্ত, জাহাঙ্গীর আলম, রনি মিয়া, রাশিদ আহমদ চৌধুরী মুরাদ, মিনার চৌধুরী, মিলাদ আহমদ, ছমির আলী, কবির মিয়া, জামরুল ইসলাম, কামরুল ইসলা, কাচা মিয়া, আব্দুর রউফ, আলাল হোসেন, ইউসুফ আলী, রাহুল ইসলাম, মুহিবুর রহমানসহ কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে জগন্নাথপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ও এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাফরোজ ইসলাম মুন্না, তোহা চৌধুরী, সুমন আহমদসহ কয়েক জন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে লাঞ্চিত করেন হাজী সুন্দর আলীর লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে রাণীগঞ্জ বাজারে থাকা আজমল হোসেন মিঠুর দোকান ভাংচুরের ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়।

আহত রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজমল হোসেন মিঠু জানান, সভায় আমি যখন বক্তব্য রাখছিলাম তখন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুন্দর আলী আমাকে বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী চলে যাওয়ার হাজী সুন্দর আলী’র নেতৃত্বে তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমিসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং আমার দোকান ভাংচুর করা হয়।

রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সুন্দর আলী জানান, সভায় ছাত্রলীগের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ ঘটনায় আমার পক্ষের কেউ আহত হয়নি।

জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email