জগন্নাথপুরে আ.লীগের গ্রুপিংয়ের প্রভাব পৌর নির্বাচনে

0
147

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: নির্বাচন আসে, চলে যায়। রেখে যায় দ্বন্ধ। নেতৃত্ব ও ক্ষতার রদবদল হয়। থেকে যায় ক্ষ চিহৃ। রাজনীতিতে এসব উত্তান-পতন ছিল, আছে ও থাকবে। এসব পরিস্থিতি ধর্য্যরে সাথে মোকাবিলা করতে পারলেই সফলতা আসে। এরকমই একটি ঘটনা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে হয়েছে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব বর্তমান পৌরসভা নির্বাচনে পড়েছে।

জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে সুনামগঞ্জ-৩ আসন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ আসন থেকে বেশিরভাগ এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যু হলে উপ-নির্বাচনে জমিয়ত নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন। এ সময় আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। তখন দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডন নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায়  বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পানপাতা প্রতীক নিয়ে শাহীনুর পাশার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। পরে ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে জরুরী অবস্থা ছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমএ মান্নান এমপি নির্বাচিত হন। এ সময় জোর লবিং চালিয়েও অবশেষে ব্যর্থ হন আজিজুস সামাদ ডন। সবশেষে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং সৃষ্টি হয়।

জানাগেছে, জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত আব্দুল খালিকের উদ্যোগে জগন্নাথপুর বাজারস্থ আব্দুল খালিকের বাসভবনে জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের উপস্থিতিতে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন প্রয়াত ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান প্রয়াত হারুনুর রশীদ হিরন মিয়া। প্রতিষ্টার পর থেকে নেতৃত্ব নিয়ে মাঝে মধ্যে মতবিরোধ হলেও  আওয়ামীলীগে কোন গ্রুপিং ছিল না। তবে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডে জোর লবিং চালিয়ে ব্যর্থ হন আজিজুস সামাদ ডন। এ সময় দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন এমএ মান্নান। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে জনগণের চাপের মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে এমএ মান্নানের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন আজিজুস সামাদ ডন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এক গ্রুপ এমএ মান্নানের পক্ষে ও আরেক গ্রুপ ডনের পক্ষে কাজ করেন। এ সময় একটি (ডন) গ্রুপ ও আরেকটি (সিদ্দিক) গ্রুপ নামে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করেনি। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও গ্রুপিংয়ের কারণে আওয়ামীলীগের একাংশ (ডন) গ্রুপ সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে (ডন) গ্রুপের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

আসন্ন জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় গ্রুপিংয়ের প্রভাব পড়েছে। এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার সুযোগে (সিদ্দিক) গ্রুপের শীর্ষ নেতারা স্থানীয়ভাবে মেয়র পদে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রশীদ ভূইয়ার নাম কেন্দ্রে পাঠান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে (ডন) গ্রুপের নেতারা সরাসরি কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড থেকে মেয়র পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আব্দুল মনাফকে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও মিজান সমর্থকরা হতাশায় ভেঙে পড়েন। এ নিয়ে ভোটার সাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে বদলে গেছে নির্বাচনী হালচাল। নতুন করে শুরু হয়েছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। এমন অভিমত ভোটার সাধারণের। (ডন) গ্রুপের হওয়ায় বর্তমান আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আব্দুল মনাফের পক্ষে (সিদ্দিক) গ্রুপের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন কি না এ নিয়ে (ডন) গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও (সিদ্দিক) গ্রুপের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভূলে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মনাফের পক্ষে কাজ করলে খুব সহজেই নৌকা প্রতীকের বিজয় হবে। তা না হলে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হতে পারে। এমন আশঙ্কা বিরাজ করছে মনাফ সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। যদিও এবারের নির্বাচনে আব্দুল মনাফ একজন হেভিওয়েট প্রার্থী।

Print Friendly, PDF & Email