জগন্নাথপুরে এক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ধ্রম্রুজাল

0
163

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ধ্রম্রুজালের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হবিবপুর আশিঘর গ্রামের নূর মিয়ার বাড়ির  পিছনের ডোবা থেকে চাঁন মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। সে দিরাই উপজেলার ডুলকর গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের আলখানারপাড় গ্রামে জনৈক লাল মিয়ার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। এ ঘটনায় চান মিয়া স্ত্রী তাহেরা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় হবিবপুর আশিঘর গ্রামের আফু মিয়া ও হাজী মনসুরসহ ২ জনকে আটক করে থানা পুলিশ। এর মধ্যে এক মাস তিন দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান আফু মিয়া।

এ মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আবেদন জানিয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবরে একটি মানবিক আবেদন করেন আফু মিয়া। আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে এ মামলার বাদিনীকে হাতে নিয়ে জগন্নাথপুর গ্রামের ইসকন্দর আলীর ছেলে লাল মিয়া মামলাটি নিস্পত্তি করার কথা বলে আফু মিয়ার নিকট নগদ ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাদীনির সন্তানদের গুম করে আফু মিয়া ও তার পরিবারকে ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর বাদীনিকে দিয়ে আফু মিয়ার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় জিডি করা হয়। জিডি নং- ৯৭০। এ ঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে-পৌর কাউন্সিলর খলিলুর রহমান, সাবেক পৌর কমিশনার আব্দুল লতিফ, সাবেক পৌর কমিশনার আবুল লেইছ, সমাজকর্মী আব্দুস সালাম, আখলুছ মিয়া, শাহ্ মাহফুজুল করিম, আদিল মিয়া, সৈয়দ জমসেদ আলী লালু, আব্দুল জালাল, খসরুজ্জামান লিটন, সালাম মিয়া, শেখ ফজর আলীসহ লুদরপুর ও ইসহাকপুর গ্রামের লোকজন জানান, চাঁন মিয়া একজন এলাকার চিহ্নিত চোর ও জাল টাকার ব্যবসায়ী ছিল। তার যন্ত্রনায় এলাকাবাসি অতিষ্ঠ হয়ে গণধোলাই দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

আফু মিয়া জানান, চুরি, ছিনতাই, জাল টাকার ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের কারণে চাঁন মিয়াকে দিরাই উপজেলার ডুলকর গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন এলাকাবাসি। পরে সে পৌর এলাকার লুদরপুর গ্রামের বাটুল মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অপকর্ম করলে তাকে এলাকাবাসি গণধোলাই দিয়ে তাড়িয়ে দেন। অবশেষে আলখানারপাড় গ্রামের লাল মিয়ার বাড়িতে বসবাস করে সে অপকর্ম চালিয়ে যায়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সে আমার বাড়িতে চুরি করতে গেলে স্থানীয় জনতা তাকে ধাওয়া করলে সে পালিয়ে যায়। পরদিন গ্রামের নূর মিয়ার বাড়ির ডোবা থেকে চাঁন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনার সাথে আমি কোন ভাবেই জড়িত নই এবং ঘটনার রাতে আমি বাড়িতেও ছিলাম না। বর্তমানে লাল মিয়ার যন্ত্রনায় আমি ও আমার পরিবারের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও মামলার বাদীনি তাহেরা বেগম ও লাল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ মামলার তন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার (ওসি তদন্ত) খান মোঃ মাঈনুল জাকির জানান, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন আছে।

Print Friendly, PDF & Email