জগন্নাথপুরে ছেলে হত্যার দায়ে মা ও প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

0
470

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় শিশু ছেলে সোয়াইবুর রহমান (১১) হত্যা মামলায় তার মা সিতারা বেগম (৩৭) ও তার কথিত প্রেমিক বারিক মিয়াকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বারিক মিয়া জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে ও ঘাতক মা সিতারা বেগম একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিতারা বেগমের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করছেন। এ সুযোগে তার স্ত্রী সিতারা বেগম একই গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে বারিক মিয়ার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালের ১৪ আক্টোবর সিতারা বেগমকে কথিত প্রেমিক বারিকের সঙ্গে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলে সিতারা বেগমের শিশু ছেলে সোয়াইবুর রহমান। শিশুটি এ ঘটনা তার বাবার কাছে বলে দেবে এমন কথা বললে তার মা বিষয়টি প্রেমিক বারিক মিয়াকে জানায়।

এর প্রেক্ষিতে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের কিশোর ছেলে সাবুল মিয়াকে দিয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শিশু সোয়াইবুরকে খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে নিয়ে যায়। পরে শিশু সোয়াইবুরকে মা সিতারা ও মায়ের প্রেমিক বারিক মিলে গলা টিপে হত্যা করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। এরপর স্বজনরা শিশুটিকে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে তার মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ পুলিশ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ১৫ অক্টোবর শিশু সোয়াইবুরের চাচাত ভাই বাদী হয়ে ঘাতক মা সিতারা বেগম, প্রেমিক বারিক ও কিশোর সাবুলকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত ঘাতক মা সিতারা বেগম ও তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেন। আসামি বারিককে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং ঘাতক সিতারা বেগম পলাতক থাকায় তাকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, একই সাথে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।

অপর আসামি সাবুল কিশোর হওয়ায় তার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদ ছইল মিয়া ও জিয়াউল ইসলাম। আসামী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন।

Print Friendly, PDF & Email