জগন্নাথপুরে মেলার বিরুদ্ধে ফুসে উঠছেন এলাকাবাসী, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

0
144

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: জগন্নাথপুরে মেলার নামে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ও জোয়া খেলা বন্ধে ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী। মেলা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে থানা পুলিশ। একটি প্রভাবশালী মহল মেলা বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। তাতে বাধা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এলাকাবাসী। এতে যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মেলা বন্ধ না হলে মেলার আয়োজনকারী ও সচেতন মহলের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ইদানিং জগন্নাথপুরে বেড়েই চলেছে মেলার নামে অশ্লীলতা ও জোয়া খেলা। এতে বিপথগামী হচ্ছে যুব ও তরুণ সমাজ। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। গত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের হলিকোনা, রৌয়াইল ও মেঘারকান্দি এলাকায় একটানা ৪/৫ দিন ব্যাপী পৃথকভাবে ৩ টি মেলা হয়েছে। আগামী শনিবার রাত থেকে রাণীগঞ্জ বাজারের পাশে আবারো মেলা বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার আরো বিভিন্ন স্থানে মেলার নামে এসব অশ্লীলতা ও জোয়া খেলা বসানোর প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রতি বছরের এ সময়ে একটি মহল স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মেলার নামে এসব অশ্লীল নৃত্য ও কেডি ঘর বসিয়ে জোয়া খেলার আসর দিয়ে রমরমা বাণিজ্যের আয়োজন করে থাকে। যদিও এসব মেলা বন্ধের দাবিতে এলাকার সচেতন মহল প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেন। অনেক সময় তাদের আন্দোলনের মুখে মেলা ভেঙে দেয় প্রশাসন। আবার অনেক সময় কোন কাজ হয় না। প্রতি বছরের মতো এবারো উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নে একটানা ৩ টি মেলা হলেও কেউ রুখতে পারেনি। এসব দেখে বর্তমানে মেলার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী। তাদের সাথে এক মত পোষন করে থানা পুলিশও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এ ব্যাপারে রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আজমল হোসেন মিঠু বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি ইতোমধ্যে এ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মেলার নামে অসামাজিকতা হয়েছে। চেষ্টা করেও আমরা রুখতে পারিনি। তবে এবার মেলার বিরুদ্ধে ফুসে উঠছেন সচেতন এলাকাবাসী। শুনেছি আগামী শনিবার রাত থেকে রাণীগঞ্জ বাজারের পাশে আবারো বসন্ত মেলার নামে অশ্লীলতা ও জোয়া খেলার আসর বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের সচেতন এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখানে কোন অবস্থায় মেলা বসাতে দেয়া হবে না। যে কোন মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে। এরপরও যদি মেলা বসানো হয়, তাহলে সর্বস্তরের জনতাকে সাথে নিয়ে বাধা দেয়া হবে। এতে বড় ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখানে মেলার নামে অসামাজিকতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরসালিন বলেন, অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। মেলার বিরুদ্ধে পুলিশ এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জগন্নাথপুর থানা এলাকায় আর কোন স্থানে মেলার নামে এসব অপকর্ম হতে দেবো না।

Print Friendly, PDF & Email