জগন্নাথপুর উপজেলার প্রায় সবকয়টি রাস্তাঘাটের নাজেহাল অবস্থা

0
123

মো. মুন্না মিয়া: জনগন তাঁদের আমানত ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে জনপ্রতিনিধি। তাঁরা কারো কাছ থেকে এক বেলা অন্ন’র জন্য হাত পাতে না। তবে সেসব জনগন চায় এলাকার উন্নয়ন। আর এসব উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত সমগ্র জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী। এ উপজেলাবাসী দীর্ঘদিন যাবত ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নানান সমস্যার সম্মূখিন হতে হচ্ছে এই উপজেলায় বসবাসকারী জনসাধারণসহ আগত অতিথিবৃন্দদেরকে। এমনকি ফিটনেস নিয়ে যানবাহন কিছুদিন রাস্তায় চলাচল করলে ফিটনেসহীন হয়ে পড়ে। ফলে যাত্রী সাধারণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি এসব রাস্তায় ত্র“টি থাকায় সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। এতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে যাত্রী সাধারণের। তাই এসব রাস্তাগুলো যথাসময়ে সংস্কার না করায় নাজেহালে পরিণত হয়েছে। ফলে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পৌর শহরের হাসপাতাল এলাকায় রাস্তার দৈন্যদশা অবস্থার স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করেছেন সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে দফায় দফায় জগন্নাথপুরে দায়িত্বরত এলজিইডি কতৃপক্ষ কাজ হচ্ছে বলে দাবি করলেও কাজ হয়নি। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কিছুদিন কাজ করে উধাও হয়ে যায়। ফলে সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ হচ্ছেনা। সংস্কারহীন হওয়ায় এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্র“টিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।”
বিভিন্ন এলাকা পরির্দশন করতে গিয়ে দেখা যায়, এ উপজেলার প্রায় সবকয়টি রাস্তা বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। অনেক রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলেও রাস্তাগুলো পানি জমে পুকুরের আকার ধারন করেছে। ফলে রাস্তার মধ্যে মাছ চাষের ফিসারী তৈরী করছেন সাধারণ জনতা। এসব জনতা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে দোষারোপ করে যাচ্ছেন।
এসব কারণে সদ্য অনুষ্টিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভোটের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফলে নৌকার ঘাটিখ্যাত জগন্নাথপুর উপজেলায় নৌকার পরাজয় দেখতে হয়েছে দলীয় নেত্রীবৃন্দকে। তাই নৌকার পরাজয় ঠেকাতে এসব কাজ দ্রুত গতিতে করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি করেছেন।
রাণীগঞ্জের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের বাসিন্দা সেকুল ইসলাম আছকা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত এসব দূর্ভোগের শিকার হয়ে আসছি। আমরা জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী উন্নয়নহীন হয়ে আছি দীর্ঘ সময় ধরে। উপজেলাবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি কামনা করছি।
মীরপুর এলাকার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সাদেকুর রহমান সাদ বলেন, দীর্ঘদিন জগন্নাথপুরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমরা সারাদেশের উন্নয়নের মতো জগন্নাথপুরে উন্নয়ন চাই।
পৌর শহরের ছিক্কা এলাকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা তুফাজ্জল হক সুমন বলেন, উন্নয়নের কথা শুনি প্রত্যেক অনুষ্টানে। তবে উন্নয়ন তো মনে হয় জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী জন্য নয়! আমরা একদিন রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ী নিয়ে গেলে আরেকবার নিয়ে যেতে পারিনা। নিয়ে যেতে হলে অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান করতে হয়। তাই এসব সমস্যার দূর করতে স্থানীয় সাংসদ অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সদয় সৃষ্টি ও কার্যকারি ভূমিকা পালন করার জন্য বিনীত অনুরোধ জ্ঞাপন করছি।
স্থানীয় মাইক্রো চালক এখলিম মিয়া জানান, আমরা জগন্নাথপুরবাসী ১৩কি.মি জগন্নাথপুর পৌর শহর-উপজেলার শেষ সীমানা কেউনবাড়ী) ১২ মাসই ভাঙ্গা থাকে। আমরা কোনো দিন মনে হয় এসব সমস্যার সমাধান পাব না। আমরা চালকরা জীবিকার তাগিদে গাড়ী চালিয়ে থাকি। ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা দিয়ে গাড়ীর সমস্যার সমাধান করতে হয়। ফলে আয়ের অনেক টাকা-পয়সা গাড়ীকে ফিটনেস করাতে চলে যায়। আমরা পরিবার পরিজনকে নিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছি।
জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের কাজ হচ্ছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য সড়কগুলোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email