জনগণের অব্যক্ত কষ্টগুলো অধিকারের ভাষায় রূপান্তরিত করতে কাজ করবে জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ

0
282

ঢাকা: অভাবের তাড়নায় মা বাবা সন্তান হন্তারক হচ্ছে অথচ কেউ কেউ আমাদের কানাডা-সিঙ্গাপুরের গল্প শোনাচ্ছেন। রাজনীতিকদের এসব মেকি কথাবার্তা ও মন্তব্যে রাজনীতির প্রতি মানুষের ঘৃণা তৈরী হচ্ছে। জনগণের জমানো অব্যক্ত কষ্টগুলো অধিকারের ভাষায় রূপান্তরিত করতে কাজ করবে জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ। আজ ঢাকায় চিকিৎসকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত মন্তব্য করেন “জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশে” এর অন্যতম উদ্যোক্তা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি জনাব তাজুল ইসলাম।
খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মেজর (অব:) ডাক্তার আব্দুল ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে সেগুন বাগিচাস্থ একটি রেস্ট্রুরেন্টে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু, ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নব নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম শাকিল, গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা: শওকত আরমান আলী, বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্ট আব্দুল্লাহিল কাফী, ডা: আমিনুল ইসলাম। এছাড়া জন আকাঙ্ক্ষার করণীয় এবং চিকিৎসা পেশার নানা বিষয়ে কথা বলেন সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ খান, ডা. মুস্তাকিম ফারুকী, ডা. রিয়াজ উদ্দিন, ডা. মুনিম রেজা প্রমূখ।

এডভোকেট তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন রাজনীতিকে একক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে যা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য একেবারেই অনিরাপদ। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন নতুন ধারার আন্দোলন ও রাজনীতি।
জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু বলেন “বিশ্বনবী মুহম্মদ (স:) ইসলামের প্রতি আহবানের আগে মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। সকল গোত্রের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে সমাজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলন কী ইসলামী আন্দোলন না অনৈসলামিক আন্দোলন?”
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর নব নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বারা ফ্যাসিবাদের পতন হয়নি। সব খানেই ছাত্র ও সাধারণ জনতার গণ আন্দোলনে স্বৈরাচারের বিদায় হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন মানুষের অধিকার ও দাবী নিয়ে সংগ্রাম করবে তখনই মানুষ তাদের সাথে রাজপথে শামীল হবে।
প্রফেসর ডা: শওকত আরমান আলী তার বক্তব্যে বলেন- নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে সিসিটিভি স্থাপন করার দাবী তুলতে হবে। চিকিৎসকদের কে ব্যক্তিগতভাবে ফিজিশিয়ান কাম সোশ্যাল জার্নালিস্ট হবার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন নিজেদের নিরাপত্তার ব্যপারে নিজেরা সচেতন হতে হবে সবার আগে।
সমাপনি বক্তব্যে প্রফেসর মেজর (অব:) ডাক্তার আব্দুল ওহাব মিনার সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ঈদের পরে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের জন্য দায়িত্ব বন্টন করে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

Print Friendly, PDF & Email