Home বিভাগীয় সংবাদ জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি একজন ‘চা বিক্রেতা’

জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি একজন ‘চা বিক্রেতা’

357
0

আরাফাত ইসলাম, মির্জাপুর(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক একজন কাউন্সিলর হয়েও “চা বিক্রেতা” হয়ে উঠার গল্প। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি কিন্তু পেশায় সামান্য চা বিক্রেতা। এই আব্দুর রাজ্জাক বিগত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অন্যান্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নিজ এলাকায় তিনি একজন সৎ ও আদর্শবান জনপ্রিতিনিধি হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় আর পরিচিত হয়ে উঠায় তার প্রসংশায় এখন পঞ্চমুখ সাধারণ জনগণ।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ”তিনি কাউন্সিলর হয়েও নিজের আয়ের উৎস হিসেবে এই চায়ের দোকানে বসেন এবং নিজেই চা বানিয়ে বিক্রি করে থাকেন। প্রতিদিন ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার চা-পান বিক্রি হয়ে থাকে। তা থেকে যা লাভ হয় তা দিয়ে কোনো মতে চলে যায়। তার মতে টাকা- পয়সায় সুখ আসে না। মানুষের ভালোবাসায় প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়। দিনের বেশিরভাগ সময় এই ছোট্ট মুদীর দোকানে বসেই সময় পার করেন। এমনকি এলাকার জনসাধারণ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে তার কাছে এখানেই আসেন। আর চায়ের দোকানে বসেই তাদের সমস্যার কথা শুনে তা সমাধান করার চেষ্টা করেন। এছাড়াও নিজের সিল-প্যাড এই দোকানেই রাখা থাকে। তাই যেকোন প্রয়োজনে অফিসিয়াল কর্মকান্ড এখানে বসেই করেন বলে জানান তিনি।”

উপজেলা সদরের বাইমহাটী গ্রামের মোঃ নাজিম উদ্দিন মিয়ার বড় ছেলে কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক। তারা পাঁচ ভাইবোন এবং ভাইদের মধ্যে তিনিই সবার বড়। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এসএসসি পাস। ১৯৯৬ সালে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে মির্জাপুর ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হলেও টানাটানির সংসারে পরিবারের হাল ধরার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। এরপর ২০০৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার জীবন শুরু করেন। এক কন্যা ও পুত্র সন্তান নিয়ে তার ছোট পরিবার। তার মেয়ে দৃষ্টিমণি পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সমাপনী পরীক্ষার্থী এবং একমাত্র ছেলে আব্দুর রহমান এর বয়স এখন সাড়ে চার বছর।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় দুই বোনের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে যায়। মেজভাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেন আর ছোট ভাই, মা-বাবা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রাজ্জাকের সুখের সংসার। তার পিতা নাজিম উদ্দিন বয়সকালে ইটভাটায় শ্রমিক যোগানদাতা হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে এক সময় বাড়ির পাশেই অবস্থিত উপজেলা প্রশাসনের মসজিদের পাশেই অল্প পুঁজিতে একটি চায়ের গুনটি দোকান খুলে বসেন। আর ছোট ভাই আব্দুল লতিফ নিজ অর্থায়নে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দোকান পরিচালনা করেন।

বাইমহাটী এলাকার বাসিন্দা মির্জাপুর সদয় কৃষ্ণ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারেক বলেন, কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক খুবই ভাল মানুষ। তিনি একজন সাদামনের ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। দোকান করার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সমস্যার কথা শুনে তা সমাধানও করে থাকেন চা দোকানে বসে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায় চা দোকানে। কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাকের চা দোকানের ৫০ গজ দূরে উত্তর দিকে মির্জাপুর পৌরসভা কার্যালয় অবস্থিত। পৌরসভা কার্যালয়ে এলাকার নাগরিকদের কোনো কাজ থাকলে দোকান ফেলে তৎক্ষণাৎ ছুটে চলে যান অফিসে।
মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সাহাদৎ হোসেন সুমনও এই কীর্তিমান কাউন্সিলরের প্রসংশা করেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক খুবই ভালো একজন মানুষ। তার মধ্যে কোনো অহংকার ও হিংসা বা প্রতিহিংসা নেই। তিনি তার কথা ও ব্যবহারে সবাইকে অতি সহজে আপন করে নিতে পারেন। তার কর্মকান্ডে তিনি পৌরসভার সেরা কাউন্সিলর হওয়ার তকমা পেয়েছেন।

Previous articleনীলা। মোঃ মাজহারুল আলম।
Next articleজগন্নাথপুরে দুর্বূত্তদের হামলায় এক যুবক গুরুত্বর আহত