জাবিতে ৫ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

0
115

Logo Chatra Lige 01
ঢাকা: পহেলা বৈশাখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৫ নেতা-কর্মীর দ্বারা এক আদিবাসি ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৪৩তম ব্যাচ) ঐ ছাত্রী যৌন হয়রানির পাশাপাশি ছিনতাইয়ের এ অভিযোগ দিলে ঘটনা ছড়িয়ে পরে। এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের সংগঠন থেকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেছে জাবি শাখা ছাত্রলীগ। অন্যদিকে এ ঘটানায় যথাযথ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন।
প্রত্যাক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের দিন অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আবাসিক হলে ফিরছিলেন ঐ ছাত্রী এবং তার সহপাঠী নাহিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গি মোড় অতিক্রম করার সময় ওই ছাত্রী এবং তার বন্ধু নাহিদকে বাধা দেয় ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী। এরা হলেন, জাবি শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য নিশাত ইমতিয়াজ বিজয় (জানার্লিজম এন্ড মিডিয়া স্ট্যাডিস বিভাগ, ৪২ তম ব্যাচ) শহীদ সালাম বরকত হলের প্রচার সম্পাদক নাফিজ ইমতিয়াজ (রসায়ন বিভাগ, ৪২ তম ব্যাচ), কর্মী রাকিব হাসান (ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, ৪৩ তম ব্যাচ) এবং নুরুল কবির ও আব্দুর রহমান ইফতি (নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ৪৩ তম ব্যাচ)। এরা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র। এসময় এদের মধ্যে থেকে একজন ঐ ছাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিলে ঐ ছাত্রীর বন্ধু নাহিদের সাথে ঐ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা নাহিদকে মারধর করে এবং তার বান্ধুবীকে শারিরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে। এসময় তারা চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয় এবং অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নাহিদ বলেন, ওরা আমাদেরকে জঙ্গলের মধ্যে টেনে নিয়ে যায় এবং আমাকে খুব মারধর করে। এসময় তারা সাড়ে ৮শত টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এছাড়া তারা আমার বান্ধবীর শাড়ি ধরে টান দেয় এবং সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করে। এদিকে ছিনতাই ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত ঐ ৫ ছাত্র। লেকের পাশে নাহিদের সাথে কথাকাটাকাটি হলেও মারধর ও লাঞ্ছিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সংগঠন থেকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেছে জাবি শাখা ছাত্রলীগ। শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাদেরকে সংগঠন থেকে সাময়কি বহিস্কার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি অভিযুক্তদের প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় যথাযথ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি তন্ময় ধর ও সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, অভিযোগপত্রটি পাওয়ার পর তা যৌন নিপীরণ বিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে যৌন নিপীরণ বিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদেদ্ধ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email