জুডিশিয়ারিকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না: প্রধান বিচারপতি

0
148

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেছেন, জুডিশিয়ারিকে কর্নার্ড (কোণঠাসা) করে দেশের মঙ্গল হয় না। মনে রাখাবেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সবারই দায়িত্ব আছে। একদিন আপনিও থাকবেন না, আমিও থাকব না। এই বিচার বিভাগ থাকবে। বিচার বিভাগ ও সরকারের মাঝে আপিনি হলেন ব্রিজ। যা কথা বলার আপনাকেই বলব।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আরও দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি সরকারকে জানাব। এর আগেও সময় দেওয়া হয়েছিল সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য। সেটা আমি করে উঠতে পারিনি। সে জন্যই আজ আদালতের কাছে চার সপ্তাহের সময়ের আবেদন করেছিলাম। আদালত দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছে।
স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আরও দুই সপ্তাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা নেই বলে জানান তিনি।
তিনটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন।
২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, এ আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও পরিপন্থী।
রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করলে বিষয়টি গত ২১ মে আদালতে ওঠে। অ্যাটর্নি জেনারেল ওইদিন শুনানি ছয় সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করলে আপিল বিভাগ ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময় পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ান হয়।

Print Friendly, PDF & Email