টেলিযোগাযোগ অধিদফতর গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0
479
Meeting Minister
ফাইল ফটো

ঢাকা: ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে ‘টেলিযোগাযোগ অধিদফতর (ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন্স-ডিওটি)’ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।
তিনি বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন নীতি প্রণয়নে পেশাগত, কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেবে টেলিযোগাযোগ অধিদফতর।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণত অধিদফতর গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় আসে না। নির্বাহী সিদ্ধান্তে অধিদফতর গঠন করা যায়। তবে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয় মনে করেছেন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। এ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন।
অধিদফতরের প্রধান হবেন মহাপরিচালক জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি খুব বড় হবে না। এতে ২৩৮টি স্থায়ী পদ থাকবে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণীর পদ ৮১টি। এ ছাড়া আরও ৭ হাজার ৫৩৬টি পদ থাকবে যা পর্যায়ক্রমে বিলুপ্ত হবে।’
অধিদফতর গঠনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘১৯৭৯ সালের একটি অধ্যাদেশের আওতায় বিটিটিবি (বাংলাদেশ টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ বোর্ড) গঠন করা হয়। ২০০৮ সালে অধ্যাদেশে দুটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড) ও বিএসসিসিএল (বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড) গঠন করা হয়। এ সংশোধনের মাধ্যমে বিটিটিবি বিলুপ্ত করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ সময় বিটিটিবির দায়-দেনা বিটিসিএলের উপর ন্যস্ত হয়। বিটিটিবিতে বিসিএস টেলিকম ক্যাডারের কর্মকর্তারা বিটিসিএলে প্রেষণে ন্যস্ত হন। তবে বিটিসিএলে বাধ্যতামূলক ন্যস্ত করা নিয়ে মামলা হয়। এ ছাড়া বিসিএস টেলিকম ক্যাডারের কর্মকর্তারা অন্য ক্যাডারে আত্মীকরণের নির্দেশ চেয়েও মামলা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তখনকার শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে কমিটি টেলিযোগাযোগ অধিদফতর গঠনের সুপারিশ করে।’
‘অধিদফতর গঠনের ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হবে। মামলা নিষ্পত্তি হবে। একটা ক্যাডার প্রায় বিলুপ্ত হতে যাচ্ছিল। বিটিটিবির টেলিযোগাযোগ ক্যাডারের কর্মকর্তারা যারা অন্য জায়গায় কাজ করছেন তারা এখানে কাজ করবেন’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
জানা গেছে, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কমিটির প্রস্তাব এবং আদালতের নির্দেশনার আলোকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৫৫টি স্থায়ী পদ এবং ৭ হাজার ৫১৯টি পর্যায়ক্রমে বিলোপযোগ্য পদসহ মোট ৭ হাজার ৭৭৪টি পদের সমন্বয়ে অধিদফতর গঠনে সম্মতি দেয়। বিটিটিবির অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী অবশিষ্ট ১১ হাজার ২৫৫টি পদে কোনো জনবল কর্মরত না থাকায় এ সব পদ বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগ মোট পদের সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে স্থায়ী পদ ২৩৮টি ও পর্যায়ক্রমে বিলোপযোগ্য ৭ হাজার ৫৩৬টি পদের সংখ্যা নির্ধারণ করে।’

Print Friendly, PDF & Email