ঢাকায় শিয়া সমাবেশে বোমা হামলায় নিহত ১, আহত শতাধিক

0
115

ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেইনী দালানের সামনে শিয়াদের সমাবেশে পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরণে সানজু (১৮) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে ৫৭ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৭ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে ও ১৬ জন মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন- আবদুর রহিম (৩০), নাঈম হোসেন (৩৫), লাবনী আকতার (১৪), আয়শা আকতার (১২), সালাউদ্দিন (৪৫), তুহিন (১২), সুদীপ (২১), মাহবুবুর রহমান (২৬), রাকিব হোসেন (২৬) ও আয়াত উদ্দিন (২৬)।

চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ জানিয়েছেন, আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলাচালে শুক্রবার রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে হোসেইনী দালান চত্বরে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ইমরান হোসেন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে হোসেইনী দালানের সামনে রাতে সবাই জড়ো হয়। দেড়টার দিকে হঠাৎ পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

এ সময় শতাধিক লোক আহত হয়। তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্প ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, আহতদের মধ্যে সানজু নামে এক যুবক রাত ৩টার দিকে মারা যায়। এ ছাড়া ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছে। সবার চিকিৎসা চলছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে পুরান ঢাকার হোসেইনী দালানে আসেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ। এদের অধিকাংশই শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।

মহানবীর (সা.) দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) শহীদ হওয়ার দিনকে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করে থাকেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রাত দেড়টা থেকে হোসনি দালানের মূল ফটকে একটি তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল। মিছিলটি পল্টনে যাওয়ার কথা ছিল। মিছিলে যোগ দিতে এসেছিলেন তরুণ, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। এর মধ্যেই রাত পৌনে দুইটার দিকে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

কারও কারও মতে পরপর ১০-১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কেউবা দৌড় দিতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পায়ের তলায় পড়েছেন। কান্না-চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আশপাশের বাসিন্দারা যে যেভাবে পারেন মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, লেগুনায় করে আহতদের ঢাকা মেডিকেল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পরে হোসেইনী দালান এলাকায় অনেককে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা চেয়ার, স্যান্ডেল, তাজিয়া মিছিলের সজ্জার সরঞ্জামাদি। বিভিন্ন স্থানে ছিল ছোপ ছোপ রক্ত। ঘটনাস্থলে কালো স্কচটেপ মোড়ানো একাধিক অবিস্ফোরিত বোমা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রনি নামের এক যুবক জানান, ঘটনার সময় তিনি দুলদুল ঘোড়ার কাছে ছিলেন। সবাই মোনাজাত করছিলেন। হঠাৎ আগুনের হলকার মতো কিছু ছুটে আসতে দেখেন। এরপর শুরু হয় হুড়োহুড়ি। তিনি ৮/১০টি আওয়াজ শুনেছেন বলে জানান।

আমলিগোলার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, মিছিলটি হোসেইনী দালান থেকে শুরু হয়ে পল্টন ঘুরে আবার হোসনি দালানে এসে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য মিছিলের আগে মোনাজাত করছিলেন সবাই। মোনাজাতের সময়ই বোমা হামলা হয়। রাবেয়া আক্তার নামের এক নারী বলেন, বোমায় তার হাত ও পা ঝলছে গেছে।

হামলায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করা হয়েছে বলে চকবাজার থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান জানান, ককটেল জাতীয় হাতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এগুলো বাইরে থেকে ছুড়ে মারা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান বলেন, রাতে কোনো ধরনের মিছিল না করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা ছিল। কিন্তু তা কেউ শোনেনি।

Print Friendly, PDF & Email