তামাশার নির্বাচন বাতিল ও ইসির পদত্যাগ দাবি আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের

0
120

Dr. Emaz Uddin 02
ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে তামাশা ও প্রহসণমূলক অভিহিত করে অবিলম্বে তা বাতিল ও পুরো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পদত্যাগ দাবি করেছে ‘আর্দশ ঢাকা আন্দোলন’। বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ এই দাবি জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবারের সিটি নির্বাচন ছিলো জাতির ইতিহাসে এক মহাকলঙ্কজনক ঘটনা। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার দলের যুবলীগ-ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাচারিতায় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি আবর্জনা বা বর্জ্যে পরিণত হয়েছে। এরকম ন্যাক্কারজনক তামাশা ও প্রহসণের নির্বাচনকে আমরা প্রত্যাখান করে আমাদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এখন আমরা এই মুহূর্তে এই তামাশার নির্বাচনটি বাতিল করে পুরো নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে না পারায় ইসির ব্যর্থতা হিমালয়চুম্বি এবং ক্ষমার অযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এই সংবাদ সম্মেলন করে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন। এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ।
আরো উপস্থিত ছিলেন- আর্দশ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, কবি আবদুল হাই শিকদার, প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান, কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি, দফতর উপকমিটির সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আমি বয়স্ক মানুষ। ১৯৪৬ সাল থেকে অনেক নির্বাচন দেখেছি। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকা ও চট্টগ্রামের যে নির্বাচনটি হয়ে গেলো, তার সাথে কেবল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকেই তুলনা করা যায়। এই নির্বাচন দেশের মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেজন্য আমরা জাতীয় স্বার্থে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের পদতাগ দাবি করছি।
‘সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে’ সিইসির এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। আমরা ভেবেছিলাম সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে আলাপ আলোচনার একটি মাঠ তৈরি হবে। যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে একটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব হবে। কিন্তু মঙ্গলবারের সিটি নির্বাচন আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনটি মোটামুটি সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের সে আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। তারা (ইসি) গতকাল যা করেছে, তাকে নির্বাচন না বলে নিলর্জ্জ প্রহসন বলাই শ্রেয়। স্থানীয় সরকারের এই রকম জঘন্য নির্বাচন আমাদের ইতিহাসে আছে বলে জানা নেই।
আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন সরকারের মর্জি পূরণ করে নির্বাচনের নামে তামাশার মাধ্যমে জিতিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। কিন্তু হারিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্রকে।
নির্বাচন বর্জনের যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৯০ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের মনোনীত প্রার্থীর কোনো পোলিং অ্যাজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। অ্যাজেন্টদের মধ্যে যারা ঢুকেছিলেন, তাদের মেরে-পিটিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ-র্যা ব ভোট কেন্দ্র দখল করে প্রতারণা, জালিয়াতি ও গায়ের জোরে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে।
আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভোট কেন্দ্রের বাইরে আনসার ভিডিপির হাফহাতা জ্যাকেট পরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা সারাক্ষণ পাহারা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের টোকেন ছাড়া কারো পক্ষেই ভোট কেন্দ্রের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়নি। ঢাকার বাইর থেকেও সন্ত্রাসীরা সরকার ঢাকায় নিয়ে এসেছিলো।
নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত পূর্ব পরিকল্পিত সরকারি দলের নেতাদের এরকম বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শওকত মাহমুদ বলেন, এটা পূর্ব পরিকল্পিত নয়। নির্বাচন বর্জন যদি পূর্ব পরিকল্পিত হতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মনোনীত প্রার্থীদের জন্য প্রচারণায় নামতেন না। আমরা ভোটগ্রহণের দিন সকালে যখন বিভিন্ন কেন্দ্রে অ্যাজেন্টদের কাছে থেকে বার্তা পাচ্ছিলাম যে, তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে, তাদের মারধর করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ঢুকাচ্ছে, তখনই প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত আমরাই হয়েছি।
বিএনপি কার্যালয় থেকে কেনো নির্বাচনের বর্জনের ঘোষণা আসলো? জানতে চাইলে শওকত মাহমুদ বলেন, মূলত প্রার্থীতা প্রত্যাহার ঘোষণা প্রার্থীদের নিজেদেরই দিতে হয়। যেহেতু তাদেরকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে, সেজন্য আমরাসহ সেখানে তাদের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা হয়েছে। সেখানে প্রার্থীরা নিজের প্রত্যাহারে ঘোষণার কথাও বলেছেন।
নির্বাচন কারচুপির প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচি দেবেন কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নই। এটি একটি নাগরিকদের একটি মঞ্চ। সেজন্য আমরা কোনো কর্মসূচির কথা ভাবছি না।

Print Friendly, PDF & Email