তারেকের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটলেন খালেদা জিয়া

0
164

34480_0
ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটলেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আজ তারেক রহমান ৫০ বছরে পা দিলেন। আগামী বছর সন্তানকে কাছে রেখেই জন্মদিন উদযাপনের প্রত্যাশা নিয়ে কেক কাটলেন মা বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেক কাটেন তিনি।
প্রথমে বিএনপি’র পক্ষ থেকে পরবর্তীতে, দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে খালেদা জিয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ তম জন্ম দিনের আরো ৩ টি কেক কাটেন।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল সোহেল সহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কেক কাটা হয় বলে জানা গেছে।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তারেক রহমান। ২০০২ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত করেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দলের পঞ্চম কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে জীবনের ৪৯টি বসন্ত পার করেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক কারণে বহুবার নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নির্যাতিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এই ভবিষ্যত সিপাহসালার। বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার এই নেতা বর্তমানে ল-নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্র নিয়ে উচ্চতর পড়াশুনা করছেন তিনি।
১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের বড় মেয়ে ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারেক রহমান। ৫০তম জন্মদিনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তারেক রহমান বাংলাদেশে নেই। এক-এগারোর সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতারের পর ১৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে। এ কারণে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তারেক রহমান। তাকে টানা ৫৪৪ দিন কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে।
ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিন সরকার ১৪টি মামলা দিয়েছিল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনে যান। বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। এখনও সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক সংগঠন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনেরও প্রেসিডেন্ট। এ সংগঠনের মাধ্যমে ‘একটি উদ্যোগ একটু চেষ্টা/এনে দেবে সচ্ছলতা’ স্লোগান নিয়ে তিনি সারাদেশে গরিব-অসচ্ছল মানুষকে হাঁস-মুরগি ও ছাগল বিতরণসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা দিয়ে গেছেন। গরিব অথচ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দিয়েছেন। কমল বীজ উদ্ভাবন এবং তা কৃষকের মাঝে বিতরণ করে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছেন।
শুধু তা-ই নয়, তারেক রহমান রাজনীতিতে যোগ দিয়েই বিএনপিকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন। এজন্য প্রণয়ন করেন ব্যাপক কর্মসূচি। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যেই তিনি বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা করেন। এসব সভার মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সংযোগ স্থাপন করেন। বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো সংগঠিত ও সুসংহত করতে ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ২৩টি ভেন্যুতে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা করেন।

Print Friendly, PDF & Email