দলীয়ভাবে নির্বাচন উপযোগী সিলেট বিভাগের ১৭ পৌরসভা

0
177

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট বিভাগের ১৯ পৌরসভার মধ্যে প্রথমবারের মত দলীয়ভাবে নির্বাচনের উপযোগী ১৭ টির নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর মামলা সংক্রান্ত ও সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় আটকে আছে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের যে কোনো দিন এ ১৭টি পৌরসভায় হতে পারে ভোট গ্রহণ। তবে সব পৌরসভায় একই দিনে ভোট নেওয়া হবে কি-না সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।
ইসি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ। এটা ইসির জন্য এক দুঃসাহসিক যাত্রা হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন তারা।

অপরদিকে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পূর্বেই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পৌর এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা ধরণের পোস্টার-ফেস্টুন, ব্যানার ও লিফলেট দিয়ে তাদের নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর তাদের পোস্টার-ফেস্টুন, ব্যানার, লিফলেটের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে ঈদ ও শারদীয় দূর্গাপুজার শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এবারের পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দলের হাইকমান্ডের সাথে লবিং-তদবির শুরু করেছেন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে যাতে দলীয় মনোনয়ন নিজের পক্ষে ঘোষণা করাতে পারেন।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলেও এখন পর্যন্ত তারা আইনের কপি হাতে পাননি। তবে হাতে সময় কম থাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ তারা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই পৌর নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর খসড়া তৈরির কাজেও হাত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আচরণবিধির খসড়ার কাজও চলছে। ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২) আরপিওর আলোকেই পৌর নির্বাচনের বিধিমালা প্রস্তুত করা হবে। কারণ এবারের নির্বাচনের অনেকটা কাজ জাতীয় নির্বাচনের মতোই হবে।

গত মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সেটা ধরে নিয়েই সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে পৌর নির্বাচনের ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে একই দিনে সব পৌরসভার ভোট নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, সিলেটসহ দেশে ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে এবার ২৪৫ পৌরসভায় ভোট নেওয়া হবে। এরমধ্যে সিলেট বিভাগের ১৯ টি পৌরসভার ১৭ টি রয়েছে। আর মামলা সংক্রান্ত ও সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় আটকে আছে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা। এ দুটি পৌরসভায় নির্বাচন হবে কিনা তাও সঠিকভাবে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে জটিলতা কেটে গেলে পরবর্তীতে নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) হিসাব অনুযায়ী ৩২৩ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৯৯ লাখের মতো। এই ভোটারদের জন্য ব্যালট পেপার ছাপা নিয়েই চিন্তিত ইসি। ইসির যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের জন্য তিন রঙের তিনটি ব্যালট হবে। সব ব্যালটেই দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম উল্লেখ থাকবে। দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য  প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধিমালা ও আচরণবিধিমালা সংশোধন করতে হচ্ছে। সেটা নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য কিছুটা সময় হাতে পাওয়া গেলেও পৌর নির্বাচনের জন্য ইসিকে দ্রুতই  প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত আইন  প্রণয়নের কাজ শেষ হবে, ততই ইসির জন্য সুবিধা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইসির কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, আগে পৌরসভায় একজন ভোটারের জন্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে তিন ধরনের ব্যালট ছাপানো হতো। কিন্তু এবার দলীয়ভাবে নির্বাচনে ২৪৫ পৌরসভার ৭৫ লাখ ভোটারের জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার ধরনের দুই কোটি ২৫ লাখ ব্যালট ছাপাতে হবে। প্রতিটি পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ধরে ইসি এই হিসাব করলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে তারা জানিয়েছেন। কারণ এর মধ্যে অনেক পৌরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা প্রায় ২০টির মতো। দেশে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। ডিসেম্বরেই নির্বাচনের উপযোগী ২৪৬টি পৌরসভার মধ্যে সিলেটের রয়েছে ১৭টি: সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার পৌরসভা, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা, সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ পৌরসভা, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই ও হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ পৌরসভা, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের আইনী জটিলতা নেই। তবে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা ও হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় সীমানা নির্ধারণ জটিলতার কারণে নির্বাচন নাও হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার নির্বাচিত পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ দিনে আড়াই শতাধিক পৌরসভায় নির্বাচন হয়। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন অনুযায়ী  প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদ পৌর পরিষদের। গত ১৭ জুন পৌরসভার তালিকা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল ইসি। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি তালিকা কমিশনের কাছে রয়েছে। একই সঙ্গে ইসির মাঠ পর্যায়ের কমকর্তাদের কাছ থেকেও তালিকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেটের ১৭ টিসহ দেশের ২৪৫টি পৌরসভার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি।

Print Friendly, PDF & Email