“দশটি বসন্ত পেরিয়ে সিকৃবি”

0
421

মোশাররফ হোসেন: বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ দশম জন্ম বার্ষিকী। সিলেট শহরের অদূরে টিলাগড়ের উত্তর পাশের চিরসবুজে ঘেরা নয়নাভিরাম নৈসর্গিক পরিমন্ডলে প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত সিকৃবি ক্যাম্পাস। এর মধ্যে ২০ একর ভূমি পাহাড় ও সবুজ টিলা বেষ্টিত। দেশে ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে লাইভস্টক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জায়াগাসহ অবকাঠামো এবং জেলা দুগ্ধ খামারের ৩৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয় সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২ নভেম্বর আরো ১৫ একর জমি বাড়িয়ে ভেটেরিনারি কলেজকে রূপান্তর করা হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। হরতালের দিনেও ক্লাস, পরীক্ষা নেয়ায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের পড়াশোনা চলছে দুর্দান্ত ও সেশনজট মুক্ত। যা অনুকরনীয়। অনুষদগুলো হলঃ ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স (ডিভিএম), কৃষি প্রকৌশল এবং কারিগরি অনুষদ, কৃষি অনুষদ, মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ, কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা, বায়োটেকনলজি এন্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, বর্তমানে ছয়টি অনুষদের আওতায় ৪২টি ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি বিশেষ বিভাগ রয়েছে যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। বাংলাদেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চল তথা সিলেটের কথা চিন্তা করে বিভাগ দুটি খোলা হয়েছে। এগুলো হল-(১) হিল এন্ড হাওর এগ্রিকালচার (২) কোস্টাল এন্ড মেরিন সায়েন্স।সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে আছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মধুর সম্পর্ক সফলতার গতিকে বেগবান করছে। নতুনভাবে আরও ডিপার্টমেন্ট বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ,রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাব। সব ক্লাসরুমে বসানো হয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর।মাল্টিমিডিয়া , বোর্ড এবং শিক্ষকগণে লেকচারের মিলিত প্রয়াসেই হয় পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন। এখন পর্যন্ত অনেক গবেষণা ও প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।HEQEP (Higher Education Quality Enhancement Project) এর আওতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট সম্পন্নহয়।এ ছাড়াও BRAC, UGC, SAURES সহ অন্যান্য সংস্থার অর্থায়নে ২০টি প্রধান প্রকল্প সম্পন্ন হয়। সিলেটেসহ সারা বাংলাদেশে জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কোন টমেটো পওয়া যেত না। সিকৃবিতে গবেষণার মাধ্যমে সারা বছর ধরে টমেটো, শীমসহ বিভিন্ন সবজি চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সফলতা। দশ বছর পূর্তী উপলক্ষে সিকৃবি শাখা ছাত্রলীগের বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক ডাঃ হৃত্বিক দেব অপু বলেন এই বিদ্যাপীঠের রয়েছে অনেক সোনালী অতীত। আর সবচেয়ে বেশী যে জিনিসটি আমাকে দোলা দেয় তা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যেকটি ছাত্র-শিক্ষকের রাজনৈতিক সচেতনতা। ছোট্ট একটি ক্যাম্পাস অথচ কী নেই সেখানে? প্রাধিকার, মৃত্তিকা,লিও ক্লাব, রোটারী ক্লাব, রক্তদাতা সংগঠন বাঁধন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন বিনোদন সংঘ, কৃষ্ণচূড়া সাংবাদিক ফোরাম সবই আছে। একঝাঁক তরুণ শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে অভিজ্ঞতায় টুইটম্বুর বর্ষিয়ান অধ্যাপক মন্ডলী। নতুন ক্যাম্পাস হিসেবে রয়েছে হাজারটা সমস্যা কিন্তু প্রতিটি সকালে প্রত্যেকের মুখে লেগে থাকে রাজ্যের হাসি। দিনান্তে ক্লান্ত মহাজনেরা নতুন দিনের সফলতা কামনা করতে করতে কেউ বা বয়েজ হল কেউ বা লেডিস হলে ফিরে। শিক্ষক মন্ডলী প্রতিনিয়ত শব্যস্ত আধুনিক জ্ঞানের আহরণে আর অর্জিত সে জ্ঞান সবার মাঝে বিলানোর প্রচেষ্টায়।
তিনি আরও বলেন ব্যক্তি ও সংগঠনের ঊর্ধ্বে আমার কাছে এই ক্যাম্পাস, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অনেক গুলো চলমান প্রকল্প আছে প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। ছাত্রলীগ সভাপতি ডাঃ শামীম মোল্লা বলেন সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর দুই দিন ব্যাপী বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচিগ্রহন করা হয়েছে, ৫ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯ঘটিকার সময় বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি, ১২ :০০ মি. কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন, ১২:৩০মি. দেয়ালিকা উন্মোচন, ১২:৪০ মি. আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজনে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি সিকৃবি, স্থান বৈশাখী চত্বর, বিকাল ৪:০০মি. আলোচনা অনুষ্ঠান স্থান প্রশাসন ভবনের সম্মুখে সন্ধা ৬:০০ মি. মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬ নভেম্বর বিকাল ৩:০০মি. ক্রীড়া প্রতিযোগীতার ফাইলাল খেলা, স্থান প্রশাসন ভবনের উত্তর পাশ্বের মাঠ, বিকাল ৬:০০মি. কনসার্ট পরিবেশন করবে শিরোনামহীন স্থান প্রশাসন ভবনের সম্মুখে।

Print Friendly, PDF & Email