দিরাইয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

0
205

Derai Map

আবুল হোসাইন, দিরাই থেকে: দিরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন জনের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ থেকে জানা যায়, বদলির বিষয়ে যে যতো বেশী টাকা দিতে পারবে তার পছন্দসই জায়গার তিনি বদলি দিয়ে দেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একাধিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। জানা যায়, গত ১২ ফ্ব্রে“য়ারী ধল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা প্রতিভা রানী দাস , উত্তর চানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তঃ বিদ্যালয় বদলির জন্য দিরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। এরপর শিক্ষা কমকর্তা আব্দুর রাজ্জাক প্রতিভা রানীর স্বামী কে অফিসে ডেকে নিয়ে বদলির জন্য দেড় লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় প্রতিভা রানীর পরিবর্তে তার জুনিয়র একজন শিক্ষককে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে উত্তর চানঁপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। ২৯ মার্চ প্রতিভা রানীর স্বামী বদলির নীতিমালা লঙ্গন পূর্বক বদলির প্রস্তাব প্রেরণের অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। প্রতিভা রানী ও বাবুল আহমদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান। তার পত্রে উল্লেখ করেন, প্রতিভা রানী দাস, সহকারী শিক্ষিকা ধল প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনি উত্তর চানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীর জন্য অবেদন আপনার নিকট দাখিল করেন। তিনি সিনিয়র হওয়া স্বত্তেও অন্য একজন জুনিয়র শিক্ষকে বদলি করেছেন।

এছাড়া মান্না বেগম, সহকারী শিক্ষিকা, বড়নগদীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনি পূর্ব চন্ডিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নীতিমালা লঙ্গন করে অন্য একজন শিক্ষককে বদলি করেন। উত্তর চানপুর ও চন্ডিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ শূন্য ঘোষণার তারিখ নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে কিনা। উল্লেখিত ২টি বিদ্যালয়ে কয়জন প্রার্থী বদলীর আবেদন করেছেন তার তালিকা , প্রাপ্ত আবেদন সমূহ জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলি করা হয়েছে কিনা তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উত্তর চানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ শূন্য হয়েছে ২৯ মার্চ ২০১৫। এসময় আমার কাছে একজন আবেদন করেন তাই তাকে বদলি করেছি। প্রতিভা রানীর আবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কোন আবেদন পাইনি। শিক্ষা অফিসের ডকেট নং ১৮৬ তাং ১৭/০২/১৫ ইং এবং ১৫ মার্চ আবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ শাহ সুপারিশ করেছেন জানালে তিনি বলেন, ডকেট হতে পারে তবে এ আবেদন আমার টেবিলে আসেনি।এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হযরত আলী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, এর আলোকে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email