দিরাইয়ে বিএনপির সুবিধাবাধীরা গা বাচাঁতে মাঠ ছাড়া

0
137

আবুল হোসাইন, দিরাই প্রতিনিধিঃ দিরাইয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময়ের সুবিধাভোগী দলীয়   নেতাকর্মীরা  গা বাঁচাতে মাঠ ছাড়া। এদের কেউ কেউ সরকারের পালাবদলের সাথে সাথে দল বদল করে যোগ দেন আওয়ামীলীগে ।বিভিন্ন ইউনিয়নের  বিএনপিপন্থী চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজেদের বিপদ মুক্ত রাখতে  সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুেলন। আবার অনেকেই  সরাসরি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন ।  সম্প্রতি কেউ কেউ  নতুন করে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিগত কমিটিতে পছন্দমত পদ না পেয়ে একটি অংশ সরকার বিরুধী আন্দোলন সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকলেও কিছুদিন যাবৎ তাদের আলাদা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে যানা যায়, দিরাই-শাল্লার সাবেক সংসদ সদস্য,বিএনপির  নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে দিরাইয়ে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী হয়ে উঠে। তার নেতৃত্বে স্থানীয় নির্বাচনে বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। কিন্তু  বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে জোট প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন তিনি। এরপর থেকে নিজে মাঠে থেকে দল গোছাতে সক্রিয় থাকলেও ক্ষমতার পালাবদলে সুবিধাভোগী স্থানীয় নেতারা চলে যান আওয়ামীলীগে। অনেকে মামলা হামলাসহ নিজেদের সম্পত্তি রক্ষায় আত্বসমর্পণ করেন আওয়ামীলীগ দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নিকট ।

উপজেলা বিএনপির  তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে  জানা যায়, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরল আলম চৌধুরী ২০০৯ সালে দল ছেড়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি  আবদুস শহিদ চৌধুরী দলে কোণঠাসা হয়ে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। নাছির উদ্দিন চৌধুরীর একসময়ের আস্থাভাজন  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আবদুল কুদ্দুস ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিরোধীতা করায় দল থেকে বহিষ্কার হন। এরপর দীর্ঘ চেষ্টা করেও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় বর্তমানে তিনি রাজনীতির বাহিরে আছেন।গেল  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন না পাওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে দূরে রয়েছেন।

সাবেক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও করিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান সরদার  ইউপি নির্বাচনে দলের সমর্থন না পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন,একই সময়ে উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি তাহের সরদার ও যোগদান করেন। এদিকে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে বিজয়ী একাধিক চেয়ারম্যান বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হয়ে বাধ্য হয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এদের মধ্যে  তৎকালীন রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান  আকিক আহমদ (মধু) বিজয়ী হওয়ার পরপরই একটি নারী নির্যাতন মামলায় আসামী হন। পরবর্তীতে মামলার হয়রানী থেকে বাচঁতে কিছুদিনের মধ্যেই সুরঞ্জিত সেনের হাতে ফুলের মালা দিয়ে আনুষ্টানিকভাবে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। এভাবে জগদল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, সরমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরী,কুলঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া, বিএনপি সমর্থনে বিজয়ী হলেও মামলার ভয়ে নিরব রয়েছেন দলীয় কাজে। তবে কুলঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া গত মাসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঢাকার বাসায় দেখা করে আওয়ামীলীগে যোগদান  নিশ্চত করেছেন বলে শুনা যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান আওয়ামীলীগে যোগদানের কারন হিসেবে বলেন, আমার বাড়িঘর ও সম্পত্তি রক্ষা করতে এবং মামলা থেকে রেহাই পেতে আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নিকট আত্মসমর্পন করেছি। এর পর থেকেই আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছি।

এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, এক শ্রেনীর সুবিধাভোগি মানুষ রাজনীতির জন্য নয়, স্বার্থের জন্য পদের লোভে দল করে। কিছু জনপ্রতিনিধি সরকারের লুটপাটের মহোৎসবে শরিক হওয়ার জন্য আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email