দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন নিয়ে প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ

0
231

Derai Map
আবুল হোসাইন, দিরাই প্রতিনিধিঃ ঐতিহ্যবাহী দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় শতবর্ষ উদযাপন নিয়ে প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে হতাশা ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দিরাই বাসীর মধ্যে। অভিযোগ উঠছে, অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র নয় এমন লোককে রেজিষ্ট্রেশন, রেজিষ্ট্রেশন ফি বৈষম্য, ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা, স্থানীয় উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা, স্বজনপ্রীতি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য উদযাপন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত, আবার একই ব্যাক্তিকে একাধিক উপ কমিটিতে অন্তভুক্ত, জনবিচ্চিন্ন ও বিতর্কিত কতিপয় ব্যাক্তিকে আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে রাখাসহ নানা কারনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, ২০১৪ সালের আগষ্ট মাসের প্রথমদিকে প্রাক্তন ছাত্র বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গৌরবময় শতবর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সর্বসম্মতি ক্রমে শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুলকে আহবায়ক ও প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস চয়নকে সদস্য সচিব মনোনিত করে শতবর্ষ উদযাপনকে শতস্ফুর্ত করে তোলার প্রত্যয় ব্যাক্ত করে সমাবেশ শেষ করা হয়। পরদিন প্রাক্তন ছাত্র উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদারের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশে সর্বসম্মতি ক্রমে সমাবেশে গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে ছাত্র নয় এমন কাউকে কোনো কিছু তে সম্পৃক্ত করা যাবে না বলে তা বাতিলের দাবি জানান। সংবাদ মাধ্যমে একই বিবৃতি প্রদান করেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল কদ্দুস। এ নিয়ে সাধারণ প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজ বাসভবনে কমিটি বাতিন না করেই মেয়র বুলবুলকে কমিটিতে বহাল রেখে প্রাক্তন ছাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, আলহাজ্ব আবদুল কুদ্দুস, আলতাব উদ্দিন, সাবেক মেয়র হাজী আহমদ মিয়াকে উদযাপন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করনের মধ্যে দিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটান। এরপর আলহাজ্ব আবদুল কুদ্দুস ও আলতাব উদ্দিন নেতৃত্ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সাধারন ছাত্রদের উপেক্ষা করে উপকমিটি গঠন করে বিগত দিনে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো কার্যক্রমে গতি আনতে পারেননি, ফলে অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে শতস্ফুর্ততার বদলে সৃষ্টি হয় হতাশা ও ক্ষোভ। অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা যখন ১ হাজার টাকা ফি ও কমিটির একাধিক সদস্যদের তুচ্ছ তাচ্ছল্যর কারনে তাদের শতস্ফুর্ততায় ভাটা পড়ে তখন প্রথা ভেঙ্গে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র নয় তাদের ৫শ টাকা ফি নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন শুরা করা হলেও রহস্য জনক কারনে উদযাপন কমিটির আহবায়করা টু শব্ধও করেন নি । ফলে এলাকা বাসির মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিগত একশ বছরে স্কুলের ছাত্র সংখ্যা অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার হলেও, ছাত্র- অছাত্র মিলে ৬শ জনই রেজিষ্ট্রেশন করেননি, এর মধ্যে অছাত্রের সংখ্যাই বেশি বলে বলে জানা গেছে।
একাধিক প্রাক্তন ছাত্ররা বলছেন, জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত কতিপয় ব্যাক্তিকে উদযাপন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় স্থানীয়ভাবে শতবর্ষ উদযাপনের শতস্ফুর্ততা সৃষ্টি হয়নি। ৭ মার্চ রেজিষ্ট্রেশনের সময়সীমা শেষ হয়, রেজিষ্ট্রেশন করেননি অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র প্রবীন শিক্ষক তাজ উদ্দিনসহ উল্লেখযোগ্য হাজারো প্রাক্তন ছাত্র । অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, প্রাক্তন সাধারন ছাত্রদের শতস্ফুর্ত অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে রেজিষ্ট্রেশন ফি বৈষম্য ও অছাত্রদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিলের দাবিতে ১৬ ফেব্র“য়ারী প্রাক্তন ছাত্ররা এক প্রতিবাদ সভা করে। এর প্রেক্রিতে উদযাপন কমিটির সদস্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমাদেরকে আশ্বন্ত করলে ৫শ টাকা ফি দিয়ে শতাধিক প্রাক্তন ছাত্র রেজিষ্ট্রেশন করেন। তিনি বলেন, একই ব্যাক্তিকে একাধিক কমিটিতে রাখার প্রতিবাদ জানালেও তা সংশোধন করা হয়নি। দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা রুমি বলেন, আমি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র নয়, অতিথি হিসেবে আমার মত অনেকেই রেজিষেট্রশন করেছেন।
পরিচালনা কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, কমিটির লোকজন শুধু কানাঘুষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, কাজ করছেন আমাদের এমপি মহোদয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর এর সাথে সহযোগী হিসেবে দিরাইয়ে আমরা কয়েকজন, তবে ঢাকা সিলেটসহ অনেকেই সহযোগীতা করছেন । যে যাই কিছুই বলুক অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবেই হবে। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্যের অন্যতম সদস্য অসীম রায় চৌধুরীর স্বজন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অসীম রায় চৌধুরী দাবী করছেন, ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে, স্কুল প্রতিষ্ঠারসাথে যারা ছিলেন তাদের ইতিহাস যেনো সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়, যাদের কোনো অবদান নেই তারাই বিতর্কের সৃষ্টি করছেন বলে তিনি জানান। দিরাই প্রেসক্লাব সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় শতবর্ষ পালন হবে অথচ উদযাপন কমিটি প্রেসের সদস্যদের এড়িয়ে চলছেন, তবে সংবাদ কর্মীদের এড়িয়ে চলার রহস্য কি, সঠিক ইতিহাস সময়মত আমরা তুলে ধরবো। প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস চয়ন বলেন, স্কুলের দাতা কে, এমন দাতা সদস্যের কোন রেকর্ড নাই, ৭ মার্চ রেজিষ্ট্রেশনের সময় সীমা শেষ হয়েছে এ পর্যন্ত ৫শ ৯৫ জনের রেজিস্ট্রেশন ফরম আমার হাতে এসছে, এছাড়াও সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ঢাকা মিলে এর সংখ্যা আরো বাড়বে। স্কুলের ছাত্র নয় এমন ব্যাক্তিকে রেজিষ্ট্রেশন করলেও তাদেরকে অতিথি হিসেবে করা হয়েছে। গৌরবময় শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান যেনো অত্র বিদ্যালয়ের নবীন-প্রবীন প্রাক্তন ছাত্রদের মিলন মেলায় পরিনত হয় এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসি।

Print Friendly, PDF & Email