দিরাই-মদনপুর সড়কে চালকের হাত থেকে বাঁচতে চলন্ত গাড়ী থেকে ঝাপ দিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

0
232

আবুল হোসাইন, দিরাই প্রতিনিধি: ঘাতক চালকের হাত থেকে  বাঁচাতে গিয়ে দিরাই-মদনপুর সড়কে শরীফপুর গ্রামের পাশে চলন্ত লেগুনা গাড়ী থেকে ঝাপ দিয়ে  স্কুল ছাত্রী রাশেদা আক্তার মনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে পাথারিয়া সুরমা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী ও উপজেলার শরিফপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে। শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। সন্ধ্যায় নিহত স্কুলছাত্রীর লাশ গ্রামের বাড়ি শরিফপুর নিয়ে আসলে তাকে এক নজর দেখতে তারসহপাঠিসহ গ্রামের হাজারো মানুষ ভিড়জমায়। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পাথারিয়া সুরমা স্কুল থেকে রাশেদা আক্তার মনি ও মারজানা আক্তারসহ সহপাঠিরা তাদের বাড়ি শরিফপুর আসতে লেগুনা গাড়ীতে উঠে। শরীফ পুরে পৌছার পর নিহত রাশেদা আক্তার মনি ও মারজানা ছাড়া বাকী সহপাঠীরা তাদের নিজ নিজ বাড়ির সীমানায় নেমে পড়েন। রাশেদা ও মারজানা তাদের বাড়ির সামনে আসলে গাড়ী থামাতে তারা চিৎকার  করলেও লেগুনা গাড়ির ড্রাইভার অসৎ উদ্যেশ্যে গাড়ি না থামিয়ে জোরপুর্বক গাড়ি চালাতে থাকে। এ সময় নিজেদের বাঁচাতে প্রথমে মারজানা আক্তার গাড়ি থেকে ঝাপ দেয় এরপর শরিফপুর গ্রামের শেষ সীমানায় এসে রাশেদা আক্তার মনি ঝাপ দিয়ে পরে গুরুতর আহত হয়। আহতবস্থায় মারজানা ও রাশেদা কে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে গুরুতর আহত রাশেদা আক্তার মনিকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্রক্রবার সকাল ৮টায় সে মারা যায়। ঘটনার দিন এলাকাবাসি নাস্মার বিহীন লেগুনা গাড়িটি আটক করলেও ঘাতক চালক রেজু পালিয়ে যায়। সে পাথারিয়া গ্রামের ছুবহান মিয়ার ছেলে। লেগুনা গাড়ির গায়ে হেপী ও তামান্না পরিবহন, গ্রাম গাজী নগর, হাজী আজিজুর রহমান লিখা ছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শরিফপুর গ্রামের ছাদ মিয়া জানান, এ সময় গাড়িতে শুধু দুই ছাত্রী ছিল এ সুযোগে চালক অসৎ উদ্যেশ্যে এদেরকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মেয়েরা আত্ম রক্ষায় গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে পরে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, মুখে মুখে শুনেছি। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি। শরিফপুর গ্রামের মন্নর মিয়ার মেয়ে আহত স্কুল ছাত্রী মারজানা আক্তার জানান, আমি ও রাশেদা বাড়ির সামনে আসলে আমাদের নামিয়ে দিতে বললেও ড়্রাইভার গাড়ী থামায় নি, এক পর্যায়ে সে গাড়ি থামাবে না বলে জোরপুর্বক গাড়ী চালাতে থাকে, তার হাত থেকে বাঁচতে আমি প্রথমে ঝাপ দেই এর পর আর কিছু বলতে পারি না। সহপাঠি রাশেদার মৃত্যুও খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মারজানা। তার মাথায় ও হাতে আঘাত রয়েছে। সে এখনও ভয়ে কাঁপছে।

Print Friendly, PDF & Email