দিরাই-শাল্লায় ২৫ হাজার দরিদ্র পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই

0
127

আবুল হোসাইন

দিরাই –শাল্লার ২৫ হাজার দরিদ্র পরিবারে এবছর ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেই। গেল কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েকদফা শিলাবৃষ্টিতে ফসলহানির শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ফসল সম্পদ, ঘর বাড়ি,বৃক্ষ,হাস-মুরগি সহ¯্রাধিক গবাদি পশু ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এসব পরিবারের কর্তা ব্যাক্তিরা বেকার দিনযাপন করছেন। ্ ফলে এসকল পরিবারে এ বছর ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা বাচ্চা ছেলে মেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেবার সামর্থ ও হারিয়ে ফেলেছেন তারা ।
উপজেলা কৃষি ও ত্রান অফিস সুত্রে জানা যায়,এবারের কাল বৈশাখী ঝড়ে দিরাই-শাল্লায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শীলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ১০ সহ¯্রাধিক হেক্টর ফসলি জমির বোরো ধান নষ্ট হয়। যা টাকার পরিমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ৭০ কোটি টাকার উপরে। এছাড়া এ বছর বজ্রপাতে দিরাই- শাল্লায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বৈশাখ ও জৈষ্ট্য মাসে হাওরে দফায় দফায় শীলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ফসলহানি হয়।এরপরও কৃষকরা বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কাজে শ্রম দিয়ে যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী মজুদ করেছিলো তা দু এক মাসের মাথায়ই শেষ হয়ে গেছে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এসব পরিবারের কর্তা ব্যাক্তিরা বেকার দিনযাপন করছেন। ্ ফলে এসকল পরিবারে এ বছর ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা বাচ্চা ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কাপড় কিনে দেবার সামর্থ ও তারা হারিয়ে ফেলেছেন।এব্যাপারে মাটিয়াপুর গ্রামের কৃষক এখলাছুর মিয়া বলেন,ঋন করে অন্যের জমি বর্গাচাষ করেছিলাম বৈশাখের শুরুতেই শিলাবৃষ্টিতে সব ধান নিয়ে য়ায়। পরিবারের লোকদের নিয়ে দু বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাই নাই, আমার পরিবারে ঈদের আনন্দ কিসের। এভাবে আরও অনেক পরিবারের কর্তাদের বেদনাবিধূর হতাশার কাহিনী শুনা যায়।,দিরাই-শাল্লায় উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলহানি ও ঘরবাড়ি বিধ্বসÍ হওয়ায় ২৫ হাজার পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। গত বছর কাল বৈশাখীর ঝড়ের পর সরকার দিরাইয়ে ২০ লাখ ও শাল্লায় ২০ লাখ ত্রান সহায়তা দিয়েছিলো। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা না আসায় দিরাই-শাল্লায় ২৫ হাজার পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই।

Print Friendly, PDF & Email