দুই বিরোধী রাজনীতিবিদের ফাঁসি অনিবার্য: অ্যামনেস্টি

0
128

ঢাকা: বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় দুই নেতাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘অনিবার্যভাবেই’ ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। লন্ডনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ মতামত জানায়। লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, ‘জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাদের বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উতরে যেতে পারেনি।’

অ্যামনেস্টি বলে, ‘এ বছর জুন ও জুলাইয়ে তারা দুইজন আপিলের আবেদন করেন। তবে সরকার দ্রুত আরও বেশি যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ করতে চায়। তাই এই দু’জনেরও রিভিউ আবেদনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। জাতিসংঘও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২ নভেম্বর মুজাহিদ ও সাকার রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। এবারও রায় পুনর্বহাল থাকলে তারা দুইজন ফাঁসি এড়াতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাউথ এশিয়া রিসার্চ বিভাগের পরিচালক ডেভিড গ্রিফিথ বলেন, ‘তাদের বিচার ও আপিল প্রক্রিয়া স্পষ্টতই ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করে কিছুদিনের মধ্যেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধ ভয়াবহ ছিল। তা সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ড সহিংসতাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। ত্রুটিপূর্ণ বিচার একে আরও অন্যায্য করে তোলে।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর থেকেই কেবল বিরোধী দলীয় নেতারাই আসছেন বিচারের আওতায়। বিশেষত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলের লোকদের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধে সংশ্লিষ্টতা ছিল। কিন্তু তাদের কাউকেই বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email