দুর্নীতি রুখতে ২২ দেশের সহযোগিতার উদ্যোগ

0
258

image_105585_0লন্ডন: দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের পাচার রুখতে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ এশিয়া ও প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে। এ ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে অ্যাপেক জোটের এক সভায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করানো হবে বলে জানা গেছে বিবিসির খবরে। শনিবার রাতে প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়, অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও একযোগে কাজ করবে প্রস্তাবিত জোটের দেশগুলো।

দুর্নীতি বন্ধে এই সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব করেছিল চীন। দুর্নীতি নিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। দুর্নীতি করে কেউ যেন অন্য দেশে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় না পায়, সে জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো তাদের প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য।
এখন এই প্রস্তাব অনুযায়ী এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক ফোরাম বা অ্যাপেক একটি দুর্নীতিবিরোধী নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে। যে ২১টি দেশ এতে যোগ দিয়েছে, তারা অন্য দেশে দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন কাউকে আশ্রয় দেবে না, তাদের বিচারের জন্য ফেরত পাঠাবে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে সহযোগিতা করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্নীতি বন্ধে এক বড় পদক্ষেপ এই সহযোগিতা। দুর্নীতির কারণে কেবল যে অসম প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হয় তা নয়, এর ফলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, প্রতিটি দেশের মানুষের সম্পদ চুরির সুযোগ তৈরি হয়।
সংবাদদাতারা বলছেন, এই চুক্তি আসলে কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। যেমন, চীনের নাগরিকরা সহজেই যু্ক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হতে পারে। অথচ চীনের সঙ্গে এসব দেশের কোনো দ্বিপক্ষীয় বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই।
কেবল এ বছরেই চীনে ১৩ হাজার কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে সাজা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষের এই অভিযানে কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চপদে আসীন থেকে শুরু করে চুনোপুঁটি কাউকেই বাদ দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তাদের অভিযানের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করবে নতুন চুক্তির অধীনে অন্য দেশগুলো থেকে কতটা সহযোগিতা তারা পায় তার ওপর। সূত্র: বিবিসি।

Print Friendly, PDF & Email