দেশকে অভিশাপমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধের বিচার শেষ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
132
Hasina
ফাইল ছবি

ঢাকা: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে অভিশাপমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ শেষ করতে হবে। তা না হলে এই দেশ অভিশাপমুক্ত হবে না। বিচারের রায় কার্যকর করে অভিশাপমুক্ত করায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দেশীয়-আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র, বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা-সন্ত্রাস-মানুষ হত্যাসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীরা যে অপরাধ করেছে, তার কোনো সীমা নেই। এদের বিচার সম্পন্ন করতে না পারলে দেশ কখনোই অভিশাপমুক্ত হবে না। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ এই অভিশাপ বইয়ে বেড়াচ্ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের আমরা বিচার ও রায় কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের ফলে একাত্তরের স্বজনহারা পরিবারগুলো কিছুটা হলেও সান্তনা পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বাংলাদেশে কোন আইএস বা জঙ্গিবাদের স্থান না হয় এজন্য আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি। বাংলাদেশ নিরাপদ বা অনিরাপদ এ নিয়ে আমাদের অনেক কথা শুনতে হয়েছে। অনেকেই জোর-জোবরদস্তি করে বাংলাদেশে আইএস বা জঙ্গি আছে এ কথা বলানোর চেষ্টা করেছে।

এ সময় যেসব দেশ এক সঙ্গে বসে এসব কথা বলানোর চেষ্টা করছে, তাদের দেশের অবস্থা কী? এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি, বাংলাদেশে কোন আইএস কিংবা জঙ্গিদের স্থান হতে দেব না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশ থেকেও নিরাপদ। এই শান্তিপূর্ণ অবস্থা যাতে ধরে রাখা যায় সে ব্যাপারে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অর্ডিন্যান্স জারি ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। অনেক যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচার শুরু হয়েছিল। অনেক যুদ্ধাপরাধীর শাস্তিও হয়েছিল। বিচারের ভয়ে একাত্তরের গণহত্যাকারী অনেক যুদ্ধাপরাধী পালিয়ে পাকিস্তানে গিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিল। কিন্তু ’৭৫-এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়া সেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেয় এবং তাদের কারাগার থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। যুদ্ধাপরাধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী এবং কুখ্যাত গণহত্যাকারী আবদুল আলিমকে মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল এই জিয়াউর রহমান।

সংসদ নেতা বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার জিয়াউর রহমান বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা তাদের বিচার করে দেশকে অভিশাপমুক্ত করছি। বিচারের রায় কার্যকর দেখে একাত্তরের স্বজনহারা পরিবারগুলো অন্ততঃ কিছুটা শান্তি পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শুধু যুদ্ধাপরাধীদেরই নয়, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদেরও এই জিয়া প্রতিষ্ঠিত ও পুরস্কৃত করেছে। পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদের সময়ও বঙ্গবন্ধুর খুনী ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হয়েছিল, রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আর খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনী রশিদকে প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী করে এনে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করেছি, রায়ও কার্যকর করেছি। জেল হত্যার বিচারের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করেছি।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে খালেদা জিয়া শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। আবার ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে ৩টি মাস নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থেকে দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। সরকারকে উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন এ কথা বলে দলীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকে হরতাল-অবরোধের নামে প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে হত্যাসহ ৫০৮ জন মানুষকে পুড়িয়েছেন। আন্দোলনের নামে এমন হত্যাযজ্ঞ দেশের মানুষ অতীতে কখনো দেখেনি।

সংসদ নেতা বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার পর কিছুই করতে না পেরে বিএনপি নেত্রী বিদেশে গেলেন। আর তখনি আমাদের দেশে দুজন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলো। আরো এক বিদেশিকে হত্যার চেষ্টা চালনো হলো। বিদেশি নাগরিককে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আমরা সনাক্ত করেছি, অনেকেকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email