দেশব্যাপী ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে

0
168

Hartal

ঢাকা: লাগাতার অবরোধের মধ্যে দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে। রোববার ভোর ৬টায় শুরু হয়েছে এ হরতাল। শেষ হবে বুধবার ভোর ৬টায়। শনিবার জোটের পক্ষে এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের খোঁজ না পাওয়ায় বুলুকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী অবরোধ পালনের পাশাপাশি গুম, খুন, অত্যাচার-নির্যাতন, অপহরণ, জেল-জুলুম, অন্যায়ভাবে রিমান্ডে নেয়া এবং বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তার আশুমুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতিটি কর্মদিবসে হরতাল পালন করছে বিএনপি জোট।
হরতাল-অবরোধকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে র্যা ব, পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যৌথ টহল টিম নামানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য নগর মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হরতাল-অবরোধের সমর্থনে মিছিল-পিকেটিং ঠেকাতে সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া অবরোধ-হরতালে যে কোন সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশ-র্যা বের পাশাপাশি সারা দেশে বেশ কয়েক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তেমন কোন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
হরতালে সকালে রাজধানীতে সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের সাথে বৈঠকে ঢাকা পরিবহণ মালিক সমিতির গাড়ি চালানোর আগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিবহনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম দেখা যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও ছিল কম।
সিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে চলছে ট্রেন। এছাড়া লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক। তবে গাবতলি, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে যাত্রী পাওয়া সাপেক্ষে দূরপাল্লার হাতেগোনা কিছু বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন নগর-মহানগরসহ জেলায়ও চলছে শান্তিপূর্ণ হরতাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রহরার মধ্যেও হরতাল-অবরোধের সমর্থনে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং করছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, রাস্তায় ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণ। জেলা সদর, নগর-মহানগরগুলোর আন্তঃমহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করার খবর পাওয়া গেছে।
হরতালের কারণে পূর্ব নির্ধারিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়।
জোটের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি নিজ নিজ এলাকায় সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার যে ঘোষণা বিএনপির চেয়ারপারসন দিয়েছেন, তাতে ২০ দলের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। চলমান সংকট নিরসনে খালেদা জিয়া যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তা মেনে নিয়ে সরকারকে অচিরেই আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণে জোর দাবি জানাচ্ছি।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতারা অশোভন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
আওয়ামী লীগকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বুলু বলেন, ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি ও দলের নেতাদের যৌথ সভায় সভানেত্রীর সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা নির্বাচনের পরও আলোচনা অব্যাহত রাখার এবং সমঝোতা হলে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছিলেন। সব গণমাধ্যমে সেই বক্তব্য প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন তার সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার সেই অঙ্গীকারের কথাই তুলে ধরেছেন।

Print Friendly, PDF & Email