দেশব্যাপী ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে

0
185

Hartal
ঢাকা: ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া লাগাতার অবরোধের মধ্যেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ফের ৭২ ঘন্টার হরতাল চলছে। রোববার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে এ হরতাল শেষ হবে বুধবার সকাল ৬টায়। শুক্রবার ২০ দলের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গত সপ্তাহেও টানা পাঁচদিন হরতাল পালন করে বিএনপি জোট।
হরতাল-অবরোধকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যৌথ টহল টিম নামানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য নগর মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হরতাল-অবরোধের সমর্থনে মিছিল-পিকেটিং ঠেকাতে সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া শনিবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে ২৮৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরো ৫৫ প্লাটুন বিজিবি।
সকালে হরতালে রাজধানীতে সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের সাথে বৈঠকে ঢাকা পরিবহণ মালিক সমিতির গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিবহনলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই কম। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল তেমনটি চোখে পড়ার মতো ছিল না।
ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের পর সেগুলো ছাড়ছে। তবে গাবতলি, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। একইভাবে দূরপাল্লার কোন যান ঢাকায় প্রবেশ করেনি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও চলছে শান্তিপূর্ণ হরতাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রহরার মধ্যেও হরতাল-অবরোধের সমর্থনে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং করছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জেলা সদর, নগর-মহানগরগুলোতে কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করার খবর পাওয়া গেছে।
হরতালের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। গতকালই শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রামে সফররত অবস্থায় হরতালে পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
দেশব্যাপী ক্রসফায়ারের মাধ্যমে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, গুলি করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে পঙ্গু ও আহত করা এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীসহ নিরীহ জনগণকে গণগ্রেফতারের প্রতিবাদ, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ ও কুক্ষিগতকরণ, সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ আরও কিছু দাবিতে এ হরতালের ডাক দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email