নতুন ইসি: আশাহত বিএনপি, আস্থায় আ’লীগ

0
131

ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ বিএনপি। তবে এই ইসির প্রতি আস্থা রাখতে চান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সাবেক সচিব কে এম নূরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সচিবালয়ে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সিইসি ও কমিশনারদের নাম প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত রাজশাহীর জেলা জজ কবিতা খানম এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী।
আওয়ামী লীগেরে একাধিক নেতা দ্য রিপোর্টকে জানান, নব গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আস্থা রয়েছে। দলের নেতারা মনে করেন নতুন এ নির্বাচন কমিশন তাদের দক্ষতার সাথে কাজ করবেন আগামীতে। নতুন নির্বাচন কমিশন জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে। একইসঙ্গে সব দলকে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন এ কমিশনকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান দলের নেতারা।
নতুন নির্বাচন কমিশন কেমন হয়েছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানাই। একইসঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।কমিশনের সবাই দক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অতীতের কর্মজীবনের মতো আগামী নির্বাচনেও তারা তাদের দক্ষতার পরিচয় দিবে।’
আরেক সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় খুব ভালো একটা নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এমন একটা নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন। যার নাম আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রস্তাব যায়নি।’
তাছাড়া নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজনকে আওয়ামী লীগ ও একজনকে বিএনপির প্রস্তাবনা থেকে নেয়া হয়েছে খুবই ভালো হয়েছে এবং খুবই আশাব্যঞ্জক বলে আমি মনে করি আমি।
এদিকে সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নতুন ইসি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
পরে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দ্য রিপোর্টকে জানান, আমরা আশা করেছিলাম একজন নিরপক্ষে ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হবে। সেটাই সমগ্র জাতির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু যাকে সিইসি করা হয়েছে তিনি আওয়ামী লীগের জনতার মঞ্চের নেতা ছিলেন। তার পরিবার আওয়ামী লীগের। আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা ক্ষুব্ধ এবং আশাহত।
তারা বলেন, সরকারের অনুগত লোকদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করার পর আমরা আশঙ্কা করেছিলাম দলীয় অনুগত লোকদের দিয়ে সিইসি করা হবে। সেই আশঙ্কা সত্য হলো। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
নেতারা জানান, মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলের জোট নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক হবে। বৈঠকের পর নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর আমরা নিরাশ, হতাশ। নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে। এই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপক্ষে ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। নতুন যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে তাতে করে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা বেড়ে গেছে।

Print Friendly, PDF & Email