পাউবো’র গাফিলতি: শাল্লায় ৪টি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি

0
462

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৪টি ফসল রক্ষার বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এনিয়ে স্থানীয় কৃষকরা আতংকিত রয়েছে। উপজেলার ছাঁয়ার হাওরসহ কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার হাওরগুলোও এই বাঁধের উপর নির্ভরশীল। এই বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করলে ৩টি জেলার হাওরগুলো তলিয়ে যায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পরও স্থানীয় ঠিকাদাররা এখনো পর্যন্ত বাঁধের কাজ শুরু করেনি।
জানা যায়, উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের শ্রীহাইল গ্রামের জোয়ারিয়ার ৮শ’ মিটার বাঁধের কাজ শুরু করেনি স্থানীয় ঠিকাদার। গত বছরও ঠিকাদারের এমন গাফিলতির জন্য জোয়ারিয়া বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। এদিকে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার ব্রিজ হতে মুক্তারপুর গ্রামের ব্রিজ পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার বাঁধের কাজও শুরু হয়নি। ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের ১শ’ ৬০ মিটার ও মনুয়া গ্রামের ১ কিঃমিঃ বাঁধের কাজ নিয়েও চলছে ঠিকাদারদের নানা নাটকীয়তা। উপজেলার হাওরগুলোর জন্য এই বাঁধগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গত ২৩ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ ঠিকাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত রাখার নির্দেশ পাউবোর কর্মকর্তাদের। তবে ঠিকাদার কর্তৃক এসব বাঁধের কাজে নিয়োজিত থাকা টিটু তালুকদার বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এক সপ্তাহের সময় নিয়েছি। ৪০ ভাগ কাজ করবো বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন পর্যন্ত পাঁচ ভাগ কাজ হয়েছে। আর শ্রমিক না পাওয়ায় জোয়ারিয়া বাঁধের কাজ শুরু করতে পারিনি। অন্যদিকে উপজেলার পিআইসি কমিটির ৩৬টি বাঁধের কাজও শেষ হয়নি। কোথাও ৪০ ভাগ কোথাও ২০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের মাদারিয়া কুঁড়ের খালের বাঁধেও ৩০ ভাগ কাজ হয়েছে। এই বাঁধে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ৩ লাখ টাকার কাজ করেছে পিআইসির সভাপতি সুব্রত সরকার। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে বাঁধে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও এই সাইনবোর্ডে বরাদ্দের পরিমান উল্লেখ করা হয়নি। কারন বরাদ্দের পরিমান উল্লেখ করা হলে এলাকাবাসীর কাছে পুকুরচুরির দৃশ্য ধরা পড়ে যাবে। সুব্রত সরকার জানান, আমরা বিল উত্তোলন করার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ১৫ ভাগের টাকা দিয়ে দিতে হয়। তাহলে আমরা কিভাবে সঠিক কাজ করতে পারবো? এব্যাপারে শাল্লা মাদারিয়ার বাঁধে দায়িত্বে থাকা ইব্রাহিম খলিল পিআইসির সভাপতির বক্তব্যের ১৫ ভাগ টাকার বিষয় অস্বীকার করে বলেন অফিসে আসেন কথা হবে। আমি মোবাইলে কোনো কথা বলতে চাই না।
নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন জানান, অভিযোগটি সত্য নয়। তবে আমার কোনো অফিসার যদি এই ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাঁধের কাজে বিলম্ব হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা আগাম বন্যার অপেক্ষায় নয় আশঙ্কায় থাকি। আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লোকবল সংকটের কারনে মনিটরিং সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।