পাকিস্তানে হাসপাতালে বোমা হামলা, নিহত ৭০

0
171

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের একটি হাসপাতালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার সরকারি হাসপাতালটিতে চালানো হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালেবান। হামলার টার্গেটে পরিণত হয় শোকস্তব্ধ একদল আইনজীবী। তারা গতকালই গুলিতে নিহত হওয়া এক সহকর্মীর লাশ দেখতে গিয়েছিলেন ওই হাসপাতালে। তখনই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে হাসপাতাল।  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেইন ও সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও আল-জাজিরা। পাকিস্তানি তালেবানের মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান এক ই-মেইলে হামলার দায় স্বীকার করে। এতে বলা হয়, ‘তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান জামাত-উর আহরার এই হামলার দায় স্বীকার করছে এবং এমন হামলা চালানো অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এ নিয়ে শিগগিরই আমরা একটি ভিডিও প্রকাশ করবো।’

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভয়াবহ এই হামলায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৭০। কমপক্ষে ১১২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ড. মাসুদ নওশেরওয়ানি।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। কমপক্ষে দুজন ক্যামেরাম্যান নিহত হয়েছেন। হামলার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে আছে লাশ। রক্ত আর ভাঙা কাচের মধ্যে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় কাঁদছেন। একে অন্যকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, ‘বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিলাল আনওয়াল কাসি’র মৃত্যুর পর একদল আইনজীবী ও সাংবাদিক হাসপাতালে জমায়েত হয়েছিলেন। তখনই বিস্ফোরণটি ঘটে। উল্লেখ্য, গতকাল সকালেই পৃথক এক হামলায় দুই অজ্ঞাত বন্দুকধারী তাকে গুলি করে হত্যা করে।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রধান আব্দুল রাজ্জাক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘হামলাকারী আনুমানিক ৮ কেজি বিস্ফোরক বেঁধে নিয়ে এসেছিল যার মধ্যে বল-বিয়ারিং ঠাসা ছিল।’
এ বছর ইস্টারের সময় লাহোরে চালানো এক হামলায় ৭৫ জন নিহত হওয়ার পর গতকালের হামলাই ছিল সব থেকে ভয়াবহ।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ নিরাপত্তা জোরদার করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। দিনের পূর্ব নির্ধারিত কার্যসূচিতে অন্যদের মধ্যে নিন্দা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলি জাফা ও বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরি। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর-এর পরিচালক লে. জে. আসিম সালিক বাজওয়া জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের স্থানান্তর করা হয়েছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, দিনের পূর্বনির্ধারিত সকল কাজ বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোয়েটা পৌঁছেছেন। গতকালের হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তার একটি বৈঠক করার কথা ছিল।
‘হামলার নেপথ্যে র’: বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী
ওদিকে, বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরি দাবি করেন, সোমবারের হামলা চালিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। এক্সপ্রেসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘কোয়েটা হামলায় র’র সম্পৃক্ততা নিয়ে আমার কাছে তথ্যপ্রমাণ আছে যেটা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শেয়ার করবো।’
এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা বার কাউন্সিলের: পাকিস্তানের বার কাউন্সিল (পিবিসি) গতকালের হামলার পর ৯ই আগস্ট দেশজুড়ে ধর্মঘট ডেকেছে। একইসঙ্গে এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় পিবিসি।

Print Friendly, PDF & Email