পুলিশের চাঁদাবাজিতে দিশেহারা মানুষ!

0
139
ফাইল ছবি

ইয়ানুর রহমান: যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পরিত্রাণ পেতে চাঁদাবাজি হয়রানির শিকারেরা বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ পুটখালীর প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য তাদেরকে চাঁদাবাজির টোপ হিসাবে বেছে নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই থানায় চাকুরি করার সুবাদে বেনাপোল পোর্ট থানার কতিপয় পুলিশ সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারন মানুষকে জিম্মির মাধ্যমে চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষ কয়েকটি সুত্র জানা যায়, এসআই হাবিব বেনাপোল পোর্ট থানা চার বার যোগদান করেছে। শেষ বার যোগদানের পর চলছে ৩বছর। এ ছাড়া এসআই মনির ৩বছর ধরে এ থানায় চাকুরি করছে। এসআই মতিয়ার ২বছর যাবদ এ থানাতেই রয়েছে। অপরদিকে এসআই ফিরোজ থানাতেই যোগদানেরর পর থেকে দুর্নীতির অতল গহবরে ডুবে যান। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ চার জন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এক লিখিত অভিযোগে বেরিয়ে এসেছে তাদের দুর্নীতির ব্যাপক ফিরিস্তি। যা দেখে গাঁ শিউরে উঠার মত। এই একবিংশ শতাব্দিতে কোন পুলিশ নিরীহ মানুষকে জিম্মি করতে পারে নিজের আখের গোছাতে পারে এটাও ভাবা যায়না। লিখিত অভিযোগে উঠে এসেছে চার পুলিশ সদস্যে দুর্নীতির ব্যাপকতা।

লিখিত অভিযোগেহর ভিত্তিতে জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর দুপুর দেঢ় টায় বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী গ্রামের মোস্তাফা’র ছেলে রাশেদ আলী বেনাপোলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। উদ্দেশ্য ছিল দোকানের মারপত্র কেনা। পথিমধ্যে ছোটআঁচড়া গ্রামের মধ্যে বেনাপোল পুটখালী সড়কের উপর থেকে এসআই মতিউর আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানায় নিয়ে যায়। রাশেদের অভিযোগ, তার কাছে ২লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি করা হয়। না দিলে অস্ত্র মামলা দেয়া হবে। শেষে মেষ ৪৫হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায় সে। তবে মালামাল ক্রয়ের জন্য রাশেদের সাথে থাকা ৩০হাজার টাকা আগে থেকেই উক্ত দারোগা নিয়ে নেয়। তা আর ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর সকাল ৭টায় পুটখালী গ্রামের মৃত রবিউল ইসলামের পুত্র আলাউদ্দিন শার্শার রাজ নগর গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় বেনাপোলের বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে এসআই ফিরোজ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে অস্ত্র মামলার ভয় দেখিয়ে ৩লক্ষ টাকা দাবি করে বলে আলাউদ্দিনের অভিযোগ। সে টাকা না দিতে পারায় দুপুর ১টায় চোখ বেধে থানা থেকে বের করে মাঠের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দর কষাকষির এক পয্যায়ের ৮৫হাজার টাকা রফা হয় । তবে পুটখালী গ্রামের নাসির টাকার জামিন হলে আলাউদ্দিন ছাড়া পায়।

পুটখালী গ্রামের সাহেব আলীর পুত্র রমজান আলী পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। সে গত ৮নভেম্বর সকাল ৯টায় শশুর বাড়ীতে যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বেনাপোল-পুটখালী সড়ক ধরে যাচ্ছিল। ছোট আঁচড়া গ্রামে পৌছালে এসআই মতিউর ও এসআই সুজিত মটরসাইকেল সহ রমজানকে আটক করে। রমজানকে কোন অভিযোগ ছাড়াই থানার হাজতে চোখ বেধে ফেলে রাখে। দারোগা ফিরোজ রাত ১০টার সময় এসে আমার চোখের বাধন খুলে ৯০হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। টাকাটি তার স্বজনদের কাছ থেকে দারোগা ফিরোজ নেয় বলে রমজান আলী জানান।

পুটখালী গ্রামের শুকুর আলীর পুত্র আরিফকে এসআই হাবিব ও এসআই মনির মামলা দেয়ার ভয়ভিতি দেখিয়ে গত ২৯ অক্টোবর বিকাল ৫টায় একই গ্রামের নাসিরের মাধ্যমে ৭০হাজার টাকার নেয়। টাকা না দেয়া পর্যন্ত কয়েক দফা ডাকাতের মত এসআই হাবিব ও এসআই মনির বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির গেট ও দরজা ভাংচুর করে। নাসিরের মাধ্যমে টাকা দেয়ার পর বর্তমানে আরিফ বিপদ মুক্ত আছে বলে অভিযোগ পত্রে উর্লেখ রয়েছে।

একই গ্রামের ইসমাইল সরদারের ছেলে মিলন হোসেন অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে, গত ১১ নভেম্বর এসআই হাবিব ও এসআই মনির মোবাইল ফোনে ১লক্ষ টাকা দাবি করে। উক্ত টাকা না দিলে মাদক মামলার ভয় দেখাতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে থানায় হাজির হয়ে দারোগা হাবিবের হাতে টাকা দেয় বলে অভিযোগ করেন মিলন। মিলন আরো বলেন, আরো ১০হাজার টাকা দাবি করলে তখন দিতে পারিনি। বাকি ১০হাজার টাকা পুটখালীর রেজার কাছে দিতে বলে দারোগারা।

পুটখালী গ্রামের মুনছুর আলীর পুত্র জাফর আলী জানান, গত ৪নভেম্বর পুটখালী গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী রেজা তাকে ধরে নিয়ে যায় বাড়ি থেকে। রেজা বলে এসআই হাবিব তাকে দেখা করতে বলেছে না গেলে অস্ত্র দিয়ে চালান দিবে। জোর করে তার কাছ থেকে ১০হাজার টাকা আদায় করে রেজা। পরের দিন থানায় হাজির হয়ে মনির দারোগার উপস্থিতিতে দারোগা হাবিবের হাতে ২০হাজার টাকা দেয় বলে জাফর জানান।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। তবে মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে কিছু চোরাকারবারি বিরাগভাজন হয়েছে।

এ ছাড়া অসংখ্য নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে এ হেন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বেনাপোল পোর্ঠ থানার অসাধূ পুলিশ সদস্যরা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে পুলিশের উর্ধতন কতৃপক্ষে হস্তক্ষে কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।

Print Friendly, PDF & Email