প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ: ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

0
138
ফাইল ছবি

নাইম তালুকদার: সুনামগঞ্জ হাসপাতালের মলিন শাদা বিছানায় ব্যথায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে চারপাশের মানুষ। তার চোখে মুখে অজানা আতঙ্ক। তাই জরোসরো শুয়ে আছে। ঘটনায় নির্বাক হতদরিদ্র মা কপাল ছুঁয়ে আদর করছেন। অসহায় বাবা কী করবেন ভেবে উঠতে পারছেন না। গত চারদিন ধরে ধর্ষিত প্রতিবন্ধী শিশু আলেয়া (৮) (ছদ্মনাম) জীবনের শুরুতেই এক অনিশ্চিত অন্ধকার জীবনের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে এক প্রতিবন্ধী শিশু গত বৃহস্পতিবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শিশুটি গত চারদিন ধরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহল ধর্ষিতার পরিবারকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী ইউসুফ আলীর বখাটে ছেলে শাহান (১৮) বাড়ির নিকটবর্তী ধানক্ষেতে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত চারদিন ধরে মেয়েটি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনাটি আপোষে নিষ্পত্তির চেষ্টায় তৎপর রয়েছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক বিচার সালিশ বসেছে। শালিসের বিচারকরা ধর্ষককে বাঁচাতে নানা ফন্দিফিকির করছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

শিশুটির বাবা বলেন, আমাদের প্রতিবন্ধী মেয়েকে একই গ্রাম প্রতিবেশী ইউসুফ আলীর বখাটে ছেলে শাহান ফুসলিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারকে ঘটনার বিষয় জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করি। গরিব মানুষ তাই মামলা করতে পারছি না। এখন মামলা না করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তাজির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি কিভাবে সংঘটিত হয়েছে তা আমার জানা নেই। মেয়েটি শারীরিক প্রতিবন্ধী সত্য। এই মেয়েটিকে নাকি গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে শাহান ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ধান ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির রক্তমাখা কাপড়-চোপড় আমাকে দেখিয়ে তার মা-বাবা হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। এ নিয়ে দু’দফা স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশ হয়েছে কিন্তু সুরাহা হয়নি। আজো (গতকাল সোমবার) বিচার- সালিশ বসবে বলে তিনি জানান। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসায় জানতে পেরেছি।

তাছাড়া শিশুটির পিতা-মাতা অভিযোগ করেছেন তাদের মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। এ বিষয়ে মামলা হলে আমরা রিপোর্ট দিব। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ চৌধুরী বলেন, শিশু ধর্ষণের বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email