প্রত্যেকেরই সৃজনশীল উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে: ড. ইউনুস

0
343

ঢাকা: মানুষ শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য রোবট নয়। বরং তাদের মধ্যে রয়েছে অন্যকে সাহায্য করার তীব্র তাড়না। এ উপলব্ধি আনার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করবে বলে মনে করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈশ্বিক উন্নয়নবিষয়ক মিডিয়া প্লাটফরম ডেভেক্সকে দেয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন তিনি। উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ইউএসএইড এবং ডেভেক্সের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘ডেভেক্স ইমপ্যাক্টে’র অ্যাসোসিয়েট এডিটর অ্যাভা স্যালডিঞ্জার লিখেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ইতিমধ্যে রূপান্তর ঘটিয়েছেন প্রফেসর মুহম্মদ ইউনূস। আর অবদান রেখেছেন উন্নয়নে। প্রফেসর ইউনূসের বয়স এখন ৭৫। তবে অনেক কিছু করা এখনও বাকি। এখন তিনি যা নিয়ে কাজ করছেন, তার প্রত্যাশা সেটাই হবে তার ‘লিগ্যাসি’। তার ভাষায়, মানবসমাজের যে ‘কৃত্রিম’ ও ‘বিকৃত’ গঠন বিশ্ব সৃষ্টি করেছে সেটা পরিবর্তন করতে কাজ করছেন তিনি। গত সপ্তাহে উগান্ডার কাম্পালাতে ডেভেক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন ড. ইউনূস। এতে তিনি আরও বলেন, আমার প্রত্যাশা মানুষ নিজেদেরকে নতুন করে আবিষ্কার করবে যে, তারা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কোন রোবট নয়। বরং অপরের জন্য কিছু করার প্রচণ্ড ক্ষুধা তাদের রয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, আপনার ভেতরে এ বিষয়টি রয়েছে। সব পকেট হাতড়ে দেখুন। ভেতরে কোথাও না কোথাও এটা রয়েছে। ড. ইউনূসের মতে, চিন্তা করার এই ধারাটা অনুপ্রেরণাদায়ক যা বৃহত্তর স্বার্থের দিকে ধাবিত হয়। আর এটা অবশ্যই তরুণ বয়স থেকে শুরু করতে হবে- বাড়িতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিশুদের শুধু এটা বলা উচিত হবে না যে, তারা যদি নির্দিষ্ট একটি পথ অনুসরণ করে তাহলে তারা বড় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হতে পারবে। বরং তাদের এটাও বলা উচিত যে, তারা চাকরিদাতা হতে পারবে। আর অন্যের জন্য কাজ করার পরিবর্তে বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারবে।

ড. ইউনূস বলেন, এ চিন্তাধারা জীবনধারায় অঙ্গীভূত করতে হবে। উন্নয়ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ভাবাদর্শ গড়ে তুলতে হবে। ড. ইউনূসের মতে, মানুষের ক্ষমতা সীমিত এখনও এমন ধারণার ওপর উন্নয়ন সম্প্রদায়ের ভিত্তি। ড. ইউনূস বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদের খেয়াল রাখতে পারি আর আমরা পৃথিবীরও তত্ত্বাবধান করতে পারি- এমন ধারণার পক্ষে আমার অবস্থান। শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূস উগান্ডা সফরকালে উন্নয়নের নানা ইস্যুতে মূল্যবান বার্তা দিয়েছেন। দেশটিতে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য থেকে যে বার্তাটি উঠে এসেছে তা হলো: প্রত্যেকেই সৃজনশীল আর প্রত্যেকেরই উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সফরে ড. ইউনূস উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দেশটিকে ইউনূস সোশ্যাল বিজনেসের কার্যক্রমের লক্ষ্য এবং এতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। একই সফরে ড. ইউনূস জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। এর অধীনে উগান্ডার শরণার্থীদের মধ্যে কিছু সামাজিক ব্যবসা কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। ড. ইউনূস চান মানুষ অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হোক। উদ্যোক্তা হওয়া এবং এর চ্যালেঞ্জগুলোও তিনি স্পষ্ট করে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এক জায়গায় বসে থাকবেন। এর অর্থ হলো আপনাকে প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email