প্রধানমন্ত্রীর আদেশ উপেক্ষা করেছিলেন কাদের

0
577

নিউজ ডেস্কঃ শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন কমিটির সভায় ওবায়দুল কাদের এলেন একটু আগেই। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে কিছুক্ষণ কথা বললেন। এসময় তাকে কিছুটা অসুস্থ মনে হচ্ছিল। সেসময় প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘সবার আগে শরীর। শরীরের যত্ন নিতে হবে। তুমি একটু রুটিন করে চলো। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করো। অতিরিক্ত পরিশ্রম করো না।’

এমন পরামর্শ এবারই প্রথম নয়। ‍২০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ওবায়দুল কাদের ব্যস্ত সময় পার করেন। নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বলেছিলেন তার পুরো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য। তাকে বলেছিলেন, ‘ফুল হেলথ চেক আপ করিয়ে নাও। অনেক পরিশ্রম যাচ্ছে, ধকল যাচ্ছে। হেলথ চেকআপ খুবই জরুরি। এই বয়সের বছরে অন্তত দুইবার ফুল হেলথ চেকআপ করানো অপরিহার্য।’ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুনে তিনি হেসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,‘আপা আমি করবো।’

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শগুলো তিনি উপেক্ষা করেছিলেন। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছিল। এমন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তাদের জীবনের রুটিন পাল্টে যায়। প্রতি রাতেই প্রায় দুইটা আড়াইটা পর্যন্ত তাকে কাজ করতে হতো। এরপর ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়ে আবারও দলীয় কর্মকাণ্ড ও মন্ত্রণালয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। মন্ত্রীদের মধ্যে তিনি এমন একজন যিনি কোনো ফাইল পেন্ডিং রাখতেন না। তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করতেন, দিক নির্দেশনা দিতেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবসময় ব্যস্ত থাকতেন। মানুষ যখন এত পরিশ্রম করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সে বিশ্রামের সময়টুকু তিনি পেতেন না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে এরকমও বলেছিলেন,‘তুমি কিন্তু পড়ে যাবা। এভাবে শরীরে অবহেলা করো না।’

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠরা বলেছেন, দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে প্রায় সময়ই তিনি মধ্যাহ্নভোজ ঠিকমতো করতে পারতেন না। প্রায়ই তিনি রাতের বেলা বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা বৈঠকে হালকা খাবার খেয়ে বাড়িতে ফিরতেন এবং প্রয়োজনীয় খাবার খেতেন না। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে তিনি ৫ ঘণ্টা ঘুমান কি না তাতেও সন্দেহ রয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের যে কয়জন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের সবচেয়ে কর্মঠ ও ব্যস্ত সাধারণ সম্পাদক বলে অনেকে মনে করেন। তিনি দলের কার্যক্রমে সবসময় উপস্থিত থাকতেন। সময় পেলেই তিনি দলীয় কার্যালয়ে যেতেন। মন্ত্রণালয়ের কাজেও তার কখনও কোন গাফিলতি ছিল না। অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণেই তার এই অসুস্থতা হয়েছে।

আমাদের দেশে যারা রাজনীতি করেন, তারা অনেক ব্যস্ত মানুষ। তারা অনেক সময় নিজেদের বয়স এবং শরীরের কথা ভুলে যান। প্রত্যেক রাজনীতিবিদই যে একজন সাধারণ মানুষ, তাদের শরীর ও বয়সের দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। ওবায়দুল কাদেরের হঠাৎ অসুস্থতা দিয়ে এই সত্যটা আবারও বেরিয়ে আসলো।

ওবায়দুল কাদের যদি প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন তাহলে তার হার্টের ব্লকগুলো হয়তো আগেই ধরা পড়তো। তার অবস্থা এতোটা খারাপ হতো না। রাজনীতিবিদরা আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ। তারাই দেশের মূল চালিকাশক্তি। কাজেই আকস্মিকভাবে যখন একজন ব্যস্ত রাজনীতিবিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন সেটা শুধু ঐ রাজনৈতিক দলের জন্যই শুধু নয়, দেশের জন্যও দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়। রাজনীতিবিদরা যদি তাদের শরীর ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে একটু সচেতন হন তবেই দেশের মঙ্গল।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার।

Print Friendly, PDF & Email